ছাত্রদলের এক নেতার নেতৃত্বে খুলনা মহানগর তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ হুমায়ুন কবিরকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নিহতের স্বজন ও পুলিশ। এই হত্যার জন্য নগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরাফাত হোসেনকে দায়ী করেছেন নিহতের ভাতিজা সৈয়দ দিদারুল আলম বিপ্লব।
রবিবার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হুমায়ুন কবিরের লাশের সামনে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন দিদারুল আলম বিপ্লব। তিনি বলেন, ‘নগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরাফাত হোসেনের সঙ্গে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ ছিল আমার চাচার। সেই বিরোধের জের ধরে রবিবার সন্ধ্যায় পাঁচ-ছয় জনকে নিয়ে চাচার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যান আরাফাত। এ সময় চাচা দোকানের সামনে বসা ছিলেন। কথাবার্তার একপর্যায়ে চাচাকে উপর্যুপরি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। তা দেখে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে চাচাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে তারা চলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন চাচাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’
দিদারুল আলম বিপ্লব আরও বলেন, ‘এর আগেও চাচাকে একাধিকবার হত্যার হুমকি দিয়েছেন আরাফাত। আজ প্রকাশ্যে সবার সামনে কুপিয়ে হত্যা করেছেন তিনি। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’
এর আগে সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর রায়েরমহল বড় মসজিদের পেছনে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘হিল ক্যানটিনে’ হুমায়ুন কবিরকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত হুমায়ুন কবির (৪৫) ওই এলাকার সৈয়দ আনোয়ার আলীর ছেলে। তিনি রায়েরমহল বড় মসজিদের পেছনে নিজ বাসায় বসবাস করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যায় হুমায়ুন কবির তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বসা ছিলেন। এ সময় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে চলে যায় পাঁচ-ছয় জন ব্যক্তি। পরে তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
খুলনা মহানগর তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবু সাঈদ শেখ বলেন, ‘হুমায়ুন কবির মহানগর তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। কী নিয়ে বিরোধে তাকে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমরা খোঁজ নিচ্ছি।’
খুলনা মহানগর বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিল্টন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নিহত সৈয়দ হুমায়ুন কবির মহানগর তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।’
নিহত হুমায়ুন কবির বিগত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করেছিলেন। আগামী কেসিসির নির্বাচনে একই ওয়ার্ড থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।
কিস্তিতে ফ্রিজ কিনে টাকা না দেওয়ার বিরোধে হত্যা
আড়ংঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলিমুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ছাত্রদল নেতা আরাফাতের ফ্রিজের দোকান রয়েছে ওই এলাকায়। কয়েক মাস আগে হুমায়ুন কবির নিজের জন্য আরাফাতের দোকান থেকে কিস্তিতে একটি ফ্রিজ কিনেছিলেন। কিন্তু সময়মতো কিস্তি পরিশোধ না করায় বিরোধ সৃষ্টি হয় দুজনের। আজ সন্ধ্যায় কিস্তির টাকা চাইতে এলে আরাফাতের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতিও হয়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হুমায়ুনকে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’
ওসি আলিমুর রহমান আরও বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। এই ঘটনার নেপথ্যে আরও কোনও কারণ আছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। স্বজনরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।’
একই কথা বলেছেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সুদর্শন কুমার রায়। তিনি বলেন, ‘পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধে হত্যার শিকার হন হুমায়ুন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি আমরা। স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু হয়েছে। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘ঘটনায় পাঁচ-ছয় জন জড়িত ছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি। তাদের মধ্যে একজনের মুখ ঢাকা ছিল। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ইজিবাইকে করে এসে হামলা চালায়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রায়েরমহল পশ্চিম পাড়া এলাকার মৃত শেখ ইদ্রিস আলীর ছেলে ছাত্রদল নেতা আরাফাত এবং তার স্বজনরা হত্যায় জড়িত। মূলত আরাফাতের দোকান থেকে কিস্তিতে ফ্রিজ কিনে সেই কিস্তির টাকা সময়মতো পরিশোধ না করায় হুমায়ুনের সঙ্গে প্রথমে তর্কবিতর্ক ও হাতাহাতি হয়। পরে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে।’
নিজ দোকানে বসে ছিলেন তাঁতী দল নেতা, কুপিয়ে হত্যা করে চলে গেলো দুর্বৃত্তরা