যশোরে শেকল পরা মাদ্রাসা ছাত্রের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন ডিসি

যশোর প্রতিনিধি
২৩ এপ্রিল ২০১৬, ০৫:৪১আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৬, ০৫:৪৪

নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসান চেক হস্তান্তর করছেনৎ যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার সদুল্যাপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসার নির্যাতিত ছাত্র আবুজারের চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বহন করার ঘোষণা দিয়েছেন যশোরের জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর। শেকল পড়া অবস্থায় ওই শিশুকে সম্প্রতি মাগুরা থেকে উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (২২ এপ্রিল) উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসান জেলা প্রশাসকের পক্ষে আবুজারের পরিবারের কাছে একটি চেক প্রদান করেন। এ সময় শিশুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হারুন-অর-রশিদ।
অন্যদিকে, মাদ্রাসায় ছাত্রদের উপর নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসান।
আবুজারের প্রতিবেশী হোসনে আরা বলেন, শিশুটিকে ৪ বছর আগে পার্শ্ববর্তী মাদরাসায় ভর্তি করেন তার বাবা-মা। কিন্তু ছেলেটা পড়াশুনা করতে চায় না, মাদ্রাসা থেকে শুধু পালিয়ে যায়।
মাদ্রাসার খোঁজখবর নিচ্ছেন জেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসান সামেলা বেগম বলেন, অনেকটা অতিষ্ঠ হয়েই সেদিন পায়ে শেকল বেঁধে ছেলেটিকে মাদ্রাসায় রেখে এসেছিলেন তার বাবা আব্দুল আলীম। তাই ছেলেকে নির্যাতনের অভিযোগে তার বাবাকে জেলে যেতে হলো, যা দুঃখজনক।
আবুজারের বাড়ি থেকে মাত্র ৫০০ গজ উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত সদুল্যাপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসা। যেখান থেকেই গত ১৮ এপ্রিল পায়ে কাঠ ও  শেকলবন্দী অবস্থায় পালিয়েছিল সে।
মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের একমাত্র শিক্ষক হুজুর জাহাঙ্গীর আলম জেলে থাকায় তাদের লেখাপড়ায় সমস্যা হচ্ছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পরিষদের সদস্য আকবর আলী বলেন, পূর্বে আবুজার মাদরাসায় থেকে অনেকবার পালিয়েছিল। গত ১৮ এপ্রিল তার বাবা শেকলবন্দী অবস্থায় রেখে যান। তখন হুজুর এ অবস্থায় রাখতে অপারগতা প্রকাশ করলেও অনেকটা জোর করেই রেখে যান আব্দুল আলীম।
আকবর আলী বলেন, হুজুর জাহাঙ্গীর আলম জেলহাজতে থাকায় ৪০ শিক্ষার্থীর পড়ালেখার ক্ষতি হচ্ছে।

মাদ্রাসায় পড়তে ভাল লাগে না আবুজারের

আবুজারের বাড়ির সামনেই ইন্দ্রা সরকারি প্রাথমিক স্কুল। স্কুলের মাঠে তার বয়সের শিশুরা খেলা করে। এই স্কুলেই পড়ার ইচ্ছে ছিল তার। কিন্তু ছেলের মতের তোয়াক্কা না করে বাবা আব্দুল আলীম অনেকটা জোর করে ছেলেকে মাদ্রাসায় ভর্তি করান। ১৫ পারা কোরআন আয়ত্বে এনেছিল আবুজার। তবে তার ভাল লাগেতো না মাদ্রাসা। তাই প্রায়ই পালাতো সে। মাদ্রাসা থেকে কেন পালাও এমন এক প্রশ্নের জবাবে আবুজার বলেন, মাদ্রাসায় যেতে তার ভাল লাগে না। সে স্কুলে পড়তে চায়।

/এসএনএইচ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম