খুলনায় বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা, হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা

খুলনা প্রতিনিধি
২৪ এপ্রিল ২০১৬, ২৩:১০আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৬, ২৩:১৪

খুলনা খুলনায় রবিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। খুলনা আবহাওয়া অফিস থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত এটিই খুলনা জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এদিকে তীব্র তাপদাহে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। ছড়াচ্ছে নিউমোনিয়াসহ গরমজনিত রোগ।
গত বছর খুলনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে ২০১৪ সালে সর্বোচ্চ ৪০.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল।
খুলনা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিরুল আজাদ বলেন, রবিবার খুলনায় এ বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। দুই থেকে একদিনের মধ্যে খুলনা অঞ্চলে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। যা তাপমাত্রাকে কমাতে সহায়তা করবে।

এদিকে ৮ এপ্রিল থেকে খুলনায় চলতে থাকা তাপদাহে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে খুলনা শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে ৩ হাজার ৮৮৯ জন শিশু। এর মধ্যে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয় ৪৬১ শিশু। বহির্বিভাগে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে ৪ হাজার ৪২৮ শিশুকে। যা স্বাভাবিক অবস্থার থেকে ৪ থেকে ৫ গুণ বেশি।

খুলনার ফুলবাড়িগেট মীরেরডাঙ্গা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত এক সপ্তাহে ভর্তি হয়েছেন ১৬৩ জন।

খুলনা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স চম্পা রানী মজুমদার বলেন, হাসপাতালে ১০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে। জায়গা না থাকা সত্ত্বেও গুরুতর অসুস্থদের ভর্তি নিতে হচ্ছে। ফলে ওয়ার্ডের মেঝে ছাপিয়ে বারান্দায় যেতে হচ্ছে রোগীদের। হাসপাতালে দেখা দিয়েছে ১০০০ সিসি ও ৫০০ সিসি কলেরা স্যালাইনের তীব্র সংকট।
খুলনা সিভিল সার্জন ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, গরমের সময় বিশেষ করে শিশুদের নিউমোনিয়া, জ্বর, বমি, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া হতে পারে। খুলনা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে কলেরা স্যালাইন সঙ্কট রয়েছে। যা সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 

শিশু হাসপাতালের ডা. মনির উদ্দিন বলেন, প্রচণ্ড গরমে হিটস্ট্রোক ও ভাইরাসজনিত কারণে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। 

খুলনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, গরমে শিশু দু’ধরনের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে। এর মধ্যে এআরআই (একুইড রেসপাইরেটনি ইনফেকশন) হলে শিশুর নাক দিয়ে পানি পড়ে, টনসিল ফুলে যায় ও শ্বাস কষ্ট হয়। এলআরটিআই (লোয়ার রেসপাইরেটরি ইনফেকশন) হলে দীর্ঘকালীন অসুস্থতায় শিশু শ্বাস কষ্টে খিচুনিতে ভুগতে পারে।

শিশু চিকিৎসক ডা. রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল জানান, অসচেতনতার কারণে যদি অভিভাবকরা যদি শিশুদের চিকিৎসা দিতে দেরি করেন। তাতে সমস্যা মারাত্মক হতে পারে। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুকে কোনও অবস্থাতেই গোসল করানো যাবে না, তেল বা লোশন লাগানো যাবে না।

আরও পড়ুন:

খুলনায় বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা, হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা জ্বালানি তেলের দাম কমলো, গণপরিবহনের ভাড়া কমবে তো?

 

/এনএস/টিএন/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক