পাঁচ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সুপারিশ বাতিলের দাবিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) মঙ্গলবার বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। সে অনুযায়ী মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ছাত্রদের এবং বুধবার সকাল ৯টার মধ্যে ছাত্রীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গরমের ছুটি এগিয়ে এনে আগামী ২৭ এপ্রিল থেকে ১১ মে পর্যন্ত এই ছুটি ঘোষণা করা হয়। মে মাসের শেষ সপ্তাহে গ্রীষ্মের ছুটি শুরু হওয়ার কথা ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা হায়াতুজ্জামান মুকুল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ২৬ মে থেকে গ্রীষ্মকালীন ছুটি শুরুর কথা থাকলেও বুধবার থেকে ছুটি শুরু হচ্ছে।
এদিকে, ২৭ ছাত্রকে আটক করে থানায় নিয়ে এসেছে পুলিশ। তবে পুলিশের এএসসি ভাস্কর সাহা বলেন, তাদেরকে আটক করা হয়নি। সোমবার ২৮ ছাত্রের নামে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে করা দুটি মামলায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ওই ছাত্রদের মধ্যে জড়িতদের আদালতে তোলা হবে। বাকিদের ছেড়ে দেওয়া হবে।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে প্রশাসনিক ভবনে তালা মেরে ভিসিকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। ফলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন উপাচার্যসহ কর্মকর্তারা। এ সময় দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও দুপুর ২টার দিকে পুলিশের লাঠিচার্জে ছাত্ররা পিছু হটে। পরে সেখান থেকে ২৭ ছাত্রকে আটক করে পুলিশ।
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র নিরাপত্তা প্রহরী বদিউজ্জামান বাদলের ভাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শরিফুল ইসলাম প্রায়ই ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করতো বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সঙ্গে প্রহরী বাদলের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মারামারিতে আহত হন প্রহরী বাদল। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গঠিত তদন্ত কমিটি গত ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের সভায় ছাত্র নাসিরউদ্দিন বাদলকে স্থায়ী বহিষ্কার এবং অন্য চার ছাত্রকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার ও প্রহরী বাদলকেও চাকরিচ্যুত করার সুপারিশ করে।
এরপর ছাত্রদের বহিষ্কারের সুপারিশ বাতিলের দাবিতে ১০ এপ্রিল থেকে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। এরই ধারাবাহিকতায় আন্দোলনের ১৭তম দিন আজ মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) প্রশাসনিক ভবনে তালা মেরে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা।
দুপুরে খবর পেয়ে ক্যাম্পাসে গিয়ে আন্দোলনকারী ছাত্রদের হটিয়ে প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলে দেয় পুলিশ। এ সময় মৃদু লাঠিচার্জে কয়েক ছাত্র সামান্য আহত হন বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা হায়াতুজ্জামান মুকুল।
কোতোয়ালি থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন জানান, বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্থিতি এখন শান্ত। তবে, ছাত্রদের ওপর লাঠিচার্জের কথা তিনি অস্বীকার করেন।
প্রসঙ্গত, আন্দোলনের জের ধরে ফেসবুকে আইডি খুলে উপাচার্য, শিক্ষক ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করায় সোমবার বিকালে ২৮ ছাত্রের নামে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে দুটি মামলাও করেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
/বিটি/এএইচ/
আরও খবর পড়ুন-








