সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সারা দেশে কৃষকেদের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয় কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল। প্রতি বছরই এই ধরণের কার্যক্রমের ঘোষণা আসলেও নেত্রকোনার কৃষকরা কোনও সময়ই এর সুফল ভোগ করতে পারেন না। বৃহস্পতিবারও এর ব্যতিক্রম ছিল না। নেত্রকোনা জেলার কোথাও সরকারিভাবে ধান ক্রয় শুরু করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কৃষকদের অভিযোগ প্রতি বছরই ঢাকঢোল পিটিয়ে সরকার এমন ঘোষণা দেয়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। দুই-একদিন দুই-এক জায়গায় ধান কেনা হলেও পর সবই কিনেন চালকল মালিকদের কাছ থেকে। ফলে কৃষকরা সরকারের নির্ধারিত মূল্য কোনও সময়ই পান না বলে অভিযোগ করেন শুনই গ্রামের কৃষক আজিম উদ্দিন।
আরও পড়তে পারেন : ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের রায় অবৈধ: সংসদে আইনমন্ত্রী
গত ২৪ এপ্রিল সচিবালয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির বৈঠকের পর খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ৫ মে থেকে ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত সরকারিভাবে ধান ও চাল সংগ্রহ করা হবে। এবার মোট ১৩ লাখ মেট্রিক টন ধান ও চাল কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭ লাখ মেট্রিক টন ধান, বাকিটা চাল কেনা হবে।
নেত্রকোনার খালিয়াজুরি উপজেলার বোয়ালী গ্রামের কৃষক খোকন মিয়া বলেন, একমণ ধানে ছয়শ’ টাকার বেশি খরচ পরে। কিন্ত বিক্রি করতে হয় চারশ’ চল্লিশ টাকা দরে। প্রতি বছরই সরকার ঘোষণা দেয় কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনবে। কিন্তু বাস্তবে খাদ্য বিভাগ এক-দুই দিন লোক দেখানো কিছু ধান কেনার পর আর কেনে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেত্রকোনা শহরের রাজুরবাজার এলাকার এক চাল কল মালিক বলেন, এখনও ধান মওজুদ করার সময় হয়নি। তাই কোনও চাল কল মালিক এখন ধান মওজুদ করবে না। এখন যে ধান কেনা হচ্ছে তা ক্রাশিংয়ের করে সাথে সাথে বাজারে বেঁচে দিচ্ছে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সোহরাব হোসেন বলেন জানান, এখনো বিভাগীয় পর্যায়ে ধান চাল ক্রয় সংক্রান্ত কেনো মিটিং হয়নি । কিংবা ধান চাল কেনার নির্দেশের কোনও চিঠি তারা হাতে পাননি । কাগজ পত্র হাতে পেলে শুরু হবে চাল ক্রয় কার্যক্রম। তবে কবে নাগাদ শুরু হতে পারে, তা তিনি জানেন না বলে জানান।
/জেবি/








