ময়মনসিংহের গফরগাঁও পৌর শহরসহ বিভিন্ন এলাকা শিলাসী, রাঘাইচটি, ষোলহাসিয়া, চরসালটিয়া, তেতুলিয়া, পুখুরিয়া, হাটুরিয়া, উথুরি ও আমাটিয়া গ্রামে কাঁচা গাছ ও বাঁশের খুঁটি দিয়ে বিপদজনকভাবে পিডিবির বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। এতে মূল্যবান ট্রান্সফরমারসহ বিদ্যুৎ সরবরাহের তাঁর ওভারলোডেড হয়ে পুড়ে যাচ্ছে। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যুৎ অফিসের একটি সিন্ডিকেট নির্বাহী প্রকৌশলী এজেএডএম আনোয়ারুজ্জামানের মদদে পৌর শহর ও উপজেলার প্রায় এলাকার বাসা-বাড়ি, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও গভীর নলকূপে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। এসব বিদ্যুতের সংযোগ লোহা কিংবা রড, সিমেন্ট দিয়ে বানানো খুঁটিতে দেওয়া হয়নি। গ্রাহকরা বাঁশের খুঁটি কিংবা গাছের ডালে ডালে এসব সংযোগ নিয়েছেন।

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সার্ভিস সংযোগের নামে এসব গ্রাহকরা বাঁশের খুঁটিতে কিংবা গাছের ডালে বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করছেন। এভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও নিরুপায় গ্রাহকরা।
জানা যায়, পৌর শহরে বেশির ভাগ এলাকায় মূল খুঁটি (পিলার) থেকে গাছ ও বাঁশের সাহায্যে বিদ্যুতের তার টেনে তা শতশত বাসা-বাড়ি, গভীর নলকূপ এবং সেচ পাম্পে সংযোগ দেওয়া হয়েছে।
শিলাসী গ্রামের আশিকুর রহমান আশিক (২২) বলেন, আমাদের এলাকায় গাছ-বাঁশের সাহায্যে টাঙানো বিদ্যুতের তারগুলো এতই ঝুঁকিপূর্ণ যে হাত বাড়ালেই ধরা যাবে। তারগুলো খুবই পুরনো হওয়ায় প্রায়ই ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে যাচ্ছে।
পুখুরিয়া গ্রামের সোহেল ও মোস্তফা জানান, বাঁশ ও গাছে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যাপারে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগে বারবার অভিযোগ করা হলেও অজ্ঞাত কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এ লাইনগুলো সরানো হচ্ছে না।

শিলাসী গ্রামের মুর্শিদুল জানান, তার ভাতিজি স্কুলে যাওয়ার সময় বাঁশে থাকা বিদ্যুতের তাঁর থাকায় খুব চিন্তিত। শুধু মুর্শিদুল নয়, এ রকম অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের নিয়ে বিপাকে। তার প্রায়ই ছিঁড়ে রাস্তায় পড়লেও দুর্ঘটনা এড়াতে কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যবস্থাই নিচ্ছে না। কিছু অবৈধ বিদ্যুৎ লাইনকে ‘সার্ভিস লাইন’ হিসেবেও দেখানো হয়েছে। পৌর শহরের মহিলা কলেজ এলাকায় গাছ ও বাঁশে বিদ্যুতের তার প্রচুর। স্থানীয়রা জানায়, বিদ্যুৎ অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে গেলে তিনি এ নিয়ে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌর শহরের পশু হাসপাতাল এলাকার মাজারবাড়িতে বিদ্যুতের তারগুলো সব গাছে টানানো।এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। ফেসবুক ব্যবহারকারী ওই এলাকার তরুণরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, টাকা ছাড়া বিদ্যুৎ অফিসে কোনও কাজ হয় না। ঝুঁকিপূর্ণ এই সার্ভিস লাইনগুলোর দূরত্ব পাঁচশ ফুট কিংবা তার চেয়েও বেশি। এতে একদিকে যেমন ঝুঁকি অন্যদিকে প্রচুর পরিমাণ বিদ্যুৎ ঘাটতি হচ্ছে যা সিস্টেম লসের নামে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এসব অবৈধ সংযোগ দেওয়ায় গত কয়েক বছরে উপজেলায় কমপক্ষে দুই শতাধিক ট্রান্সফরমার জ্বলে যায়। ফলে অনেক এলাকা দিনের পর দিন বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকে। আবার জ্বলে যাওয়া ট্রান্সফরমার পুনরায় স্থাপনের জন্য এলাকার গ্রাহকদের কাছ থেকে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা জোর করে গ্রহণ করা হয়।
এ বিষয়ে কথা বলতে গফরগাঁও বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্বাহী প্রকৌশলী এজেএডএম আনোয়ারুজ্জামানের অফিসে গেলেও তিনি দেখা করেননি। পরে মোবাইল ফোনে কল দিলেও রিসিভ করেননি।
/বিটি/টিএন/
আরও পড়ুন:
শিক্ষার্থী ১০ দিনের বেশি অনুপস্থিত থাকলে সরকারকে জানানোর নির্দেশ
বাংলাদেশে পিস টিভি’র অন-এয়ার বন্ধের সিদ্ধান্ত








