নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী সুসং দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে উধাও দুটি ট্রাকসহ ৪শ’ বস্তা চাল গত পাঁচ দিনেও উদ্ধার করা যায়নি। এই নিয়ে গত রবিবার রাতে দুর্গাপুর পৌর মেয়র আব্দুস সালাম সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে খাদ্য কর্মকর্তাদের দুর্নীতি, অনিয়ম ও নানা অসঙ্গতির কথা তুলে ধরে এর প্রতিকারের দাবি জানিয়েছেন।
দুর্গাপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পৌর মেয়র লিখিত বক্তব্যে বলেন, সরকারি খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) দেবব্রত বিশ্বাস গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রায় ৯শ’ টন বি আর -২৮-২৯ জাতের ধান কিনেন। পাশাপাশি একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অত্যন্ত কৌশলে ওই ধান বিভিন্ন চাল কলে পাঠিয়ে, এর পরিবর্তে হিরা-২ মোটা চাল গুদামে মজুদ করেন। এই খবর জানাজানি হয়ে গেলে পরদিন শুক্রবার স্থানীয় সুধী, জনপ্রতিনিধি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ হক, মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজেদ আলী, তারা মিয়া ফকির, জাফর আলী ও হাবিবুর রহমানসহ আমি নিজে খাদ্য গুদামে পৌঁছে দেখতে পাই ২টি ট্রাক থেকে ভেজাল মোটা চাল গুদামে ঢুকানো হচ্ছে। তাৎক্ষণিক পুলিশকে জানানো হলে এসআই মো. মোস্তাফিজুর রহমান, এসআই মো. আসাদুজ্জামান ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৪শ’ বস্তা চালসহ ট্রাক দুটি জব্দ করেন। উপস্থিত ব্যক্তিদের সামনেই তা সরকারি খাদ্য গুদামেই রাখা হয়। কিন্তু পরদিনই জব্দকৃত চালসহ ট্রাক দুটি উধাও হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে মেয়র আব্দুস সালাম বলেন, জব্দকৃত ট্রাক দুটিসহ ৪শ’ বস্তা চাল কিভাবে কার নির্দেশে সরকারি গুদাম থেকে উধাও হয়ে গেল। এর বিচার বিভাগীয় সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। এসময় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারি খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি)দেবব্রত বিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলার জন্য তাকে একাধীকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এ ব্যাপারে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর বলেন, আমার কাছে এই সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ নেই। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন : শোলাকিয়ায় হামলার ঘটনায় গ্রেফতার পাঁচ যুবকের জামিন নামঞ্জুর








