প্রতিবন্ধী হয়েও তারা জয়ী, তৈরি করা শতরঞ্জি যাচ্ছে বিদেশে

আশরাফ উদ্দিন সিজেল, ময়মনসিংহ
০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৮:০২আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৮:০২

 

ময়মনসিংহ শহরের ‘কাঁচিঝুলি প্রতিবন্ধী কমিউনিটি সেন্টার’। সেখানে গেলে বেশ ভালো করেই উপলব্ধি করা যায়, প্রতিবন্ধীরা সমাজের জন্য কোনও প্রতিবন্ধকতা নয়। তাদের তৈরি শতরঞ্জি ও হস্তশিল্পের বিভিন্ন পণ্য এখন বিদেশে রফতানি হচ্ছে। হস্তশিল্পের-কাজে-ব্যস্ত-প্রতিবন্ধী-নারীরা

কাঁচিঝুলিতে প্রতিবন্ধী কমিউনিটি সেন্টার মহিলা ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৭ সালে। সেই থেকে প্রতিবন্ধী নারীরা হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য তৈরির কাজ করে যাচ্ছেন। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারী নোপালি কাজ করছেন ২০০৮ সাল থেকে। পোলিওর কারণে পঙ্গু হওয়ার পর তিনি সেখানে কাজ শুরু করেন। সেখানে শতরঞ্জি তৈরি করেন তিনি। নোপালি জানান, তিনি এখন আর সংসারের বোঝা নন।
ময়না কাজ করছেন একই বছর থেকে। দুর্ঘটনায় একটি পা হাঁটুর নিচ থেকে কেটে ফেলতে হয়েছিল তার। সংগঠন থেকে বিনামূল্যে একটি কৃত্রিম পা দেওয়া হয় তাকে। শুধু নোপালি ও ময়না নয়, ১৭ জন প্রতিবন্ধী নারীকে নিয়ে চলছে শতরঞ্জি তৈরির কাজ।
বিলকিছ আক্তার একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। গত ৮ বছর ধরে তিনি হস্তশিল্পের কাজ করছেন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ‘ময়মনসিংহ কমিউনিটি প্রতিবন্ধী সেন্টার’এ। আর নিজের উপার্জিত অর্থ খরচ করছেন পরিবারের পেছনে।
বিলকিছ জানান, সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত প্রায় ২৫ জন প্রতিবন্ধী নারী হস্তশিল্প ও শতরঞ্জি তৈরি করেন। কাজ শেষ করার জন্য তেমন কোনও বাধ্যবাধকতা না থাকলেও নিজেদের মধ্যে এক ধরনের তাগিদ থাকে। প্রতিবন্ধী নারীরা লেখাপড়াও করেন। তাদের রয়েছে মাতৃত্বকালীন ছুটিও। প্রতিবন্ধী-নারীদের-তৈরি-কার্পেট
শারীরিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ময়না, বাভলী, সাবিনা, কল্পনা, প্রিয়া, স্মৃতি ও সেতুর মতো প্রায় দুই শতাধিক নারী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে হস্তশিল্পের কাজ করে এখন স্বাবলম্বী।
প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক অঞ্জন কুমার চিচাম বলেন, ‘সহায়তা নির্ভর প্রতিষ্ঠানের প্রতিবন্ধী নারীদের তৈরি পণ্য এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে যাচ্ছে।’
প্রতিবন্ধী নারীক্লাব শান্তিনীড়ে গিয়ে কথা হয় ক্লাবের সহকারী ইনচার্জ চুমকি বিশ্বাসের সঙ্গে। তিনিও পোলিওর কারণে বেশি দূর একা হাটতে পারেন না। ক্লাবের সদস্যরা এমব্রয়ডারির কাজও করেন। অনেকে বাড়িতে বসে এ কাজ করার সুযোগ পান। তাদের মোট সদস্য সংখ্যা ১০৩ জন। ক্রাচ নিয়ে চলাফেরা করা বিলকিস আক্তার জানান, তিনি সুতা দিয়ে নকশার কাজ করেন। যা পান তা দিয়ে সংসারের ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চলে যায়।
প্রতিবন্ধী মহিলাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এ সেন্টারে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। এ সেন্টারে গ্রুপভিত্তিক কাজ করেন তারা। বেশির ভাগ প্রতিবন্ধী নিজের বাড়িতে বসেই কাজ করেন। প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে সরকারের সহায়তার দাবি জানান প্রতিবন্ধী কমিউনিটি সেন্টারের শান্তিনীড় নামে এ ক্লাবের সভাপতি তাহমিনা আক্তার। তিনিও অন্যের সাহায্য ছাড়া হাটতে পারেন না।
প্রতিবন্ধী নারীক্লাব শান্তিনীড়ে কাজ করছেন বাক, বুদ্ধি ও শারীরিক প্রতিবন্ধী নারীরা। তাদের তৈরি হস্তশিল্প, শতরঞ্জি, ব্যাগ, নকশি কাঁথা, বিছানার চাদর, কুশন, মশারী, বিছানার চাদর ও ওয়ালমেটসহ সহ বিভিন্ন পণ্য দেশ-বিদেশে বিক্রি হচ্ছে।
/এআর/এআরএল/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম