ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় ২৪ সদস্যের এক পরিবারকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ভিটে থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুলে নেওয়া হয়েছে তাদের ঘরের টিন, দরজা-জানালা।গত তিন মাস ধরে ওই পরিবারের লোকজন ঘরছাড়া। নিরাপত্তাহীনতার ওই পরিবার আশ্রয় নিয়েছে পরের বাড়িতে।
জানা গেছে, উপজেলার বরুকা গ্রামের প্রভাবশালী আব্দুল হাই মাস্টারের ছেলে শাহজাহান কবীর সাজু তার পুকুরের মাছ বিষ দিয়ে মেরে ফেলা সন্দেহে পার্শ্ববর্তী বাড়ির রহুল আমীন, শফিকুল ইসলাম ও গোলাপ মিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দিয়ে পরিবারটিকে হয়রানি শুরু করে। মামলা দিয়েই ২৪ সদস্যের ওই পরিবারকে ভিটে থেকে উচ্ছেদ করেছে প্রভাবশালীরা।
পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়ার পর রহুল আমীনের ছয় ভাইয়ের ছয়টি থাকার ঘরসহ ১১টি ঘরের টিন ও দরজা-জানালা খুলে নিয়ে গেছে প্রভাবশালীরা। তিন মাস ধরে পরিবারটি আশ্রয় নিয়েছে অন্যের বাড়িতে। বিঘ্নিত হচ্ছে ছেলেমেয়েদের শিক্ষার্থীর লেখাপড়া। খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফুলবাড়িয়া থানার এসআই রুহুল আমিন জানান, পুকুরে বিষ দেওয়ার বিষয়ে সাক্ষী না থাকায় আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে।
রহুল আমীনের মেয়ে ফুলবাড়ীয়া পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার মীম বলে, ‘তিন মাস ধরে আমরা বাড়িঘর ছাড়া। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি নির্বিঘ্নে লেখাপড়া করতে চাই।’
রহুল আমীন বলেন, ‘তিন মাস ধরে আমরা ছয় ভাই বাড়িঘর ছেড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। বাড়িতে গেলে আমাদের মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ায় সেখানেও যেতে পারি না। প্রভাবশালীরা আবাদ করা খেতের ফসল কেটে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। আমরা ভিটে থেকে উচ্ছেদের বিচার চাই।’
এদিকে, আব্দুল হাই মাস্টার বলেন, ‘বাড়ি রহুল আমীনদের নয়। আমার দাদা তাদেরকে থাকতে দিয়েছিল।আমরা আমাদের জমি দখলে নিচ্ছি।’
ফুলবাড়িয়া থানার ওসি রিফাত খান রাজিব বলেন, ‘এ বিষয়ে কেউ কোনও অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আরও পড়ুন:
নাসিরনগরে হিন্দুদের ওপর ফের হামলা
/বিটি/এসটি/








