পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রায় পেকে আসা ধান হঠাৎ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় হাহাকার করছেন কৃষকরা। ইতোমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করতে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নালিতাবাড়ী উপজেলায় দুই কোটি ৯৪ লাখ টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। চলতি বোরো মওসুমে উপজেলার কলসপাড় ইউনিয়নের ২ হাজার ২৮০ হেক্টর ও যোগানিয়া ইউনিয়নের ৩ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়। গত ২২ এপ্রিল উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি ও ভারি বর্ষণের কারণে মালিঝি ও চেল্লাখালী নদীর উপচে পড়া পানিতে এসব ফসল ডুবে যায়।
কৃষি কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী কলসপাড় ইউনিয়ন ও যোগানিয়া ইউনিয়নের ২৫০ একর জমির ফসল সম্পূর্ণ ও ৭৫০ একর জমির ফসল আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফ ইকবাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নিচু এলাকা হওয়ায় পাহাড়ি ঢল ও ভারি বর্ষণের পানিতে ফসল ডুবে গিয়েছিল। এতে দুই ইউনিয়নে ২ কোটি ৯৪ লাখ টাকার ফসল বিনষ্ট হয়েছে।’
কৃষক আমর আলী জানান, হঠাৎ বন্যায় উপজেলার কোথাও কোথাও ধান একেবারেই হয়নি। যেখানে বন্যা হয়নি সেখানে ব্লাস্ট রোগ ধরেছে, আর যেখানে ধান স্বাভাবিক হয়েছে সেখানে ধানের ফলন হয়েছে অর্ধেকেরও কম।
কলসপাড় গ্রামের কৃষক রুমান জানান, অকাল বন্যায় তার ৪ একর জমির ফসল সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ বছর তার চাল কিনে খেতে হবে। বারোমারী গ্রামের কৃষক সুরুজ্জামানও জানান একই কথা।
দরিকালিনগর গ্রামের কৃষক মো. উকিল মিয়া, আমেজ উদ্দিন, সিরাজুলসহ অন্য কৃষকরা বলেন, ‘২৬ একরের পাকা বোরো ধান ক্ষেত পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আজ আমরা দিশেহারা। আমাদের ছেলে-মেয়েরা কান্নাকাটি করছে। কারণ, এই ধান বেঁচে তাদের পড়াশোনার খরচের টাকা দেওয়ার কথা ছিল।’
কালিনগর গ্রামের কৃষক ফজলুর রহমান বলেন, ‘এবার বোরো মওসুমে আমার আবাদকৃত ১২ বিঘা জমির ধান পাঁচদিন ধরে পানির নিচে থেকে পঁচে নষ্ট হয়ে গেছে। গরু মহিষের খাবারের জন্য খড় ধার করে অন্য এলাকা থেকে আনতে হচ্ছে। নিজেদের কী হবে ভেবে পাচ্ছি না।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দায়িত্বে থাকা সহাকারী কমিশনার (ভূমি) জাহিদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করতে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের বলা হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী সরকারিভাবে তাদের সহায়তা করা হবে।’
/এমও/আপ-এআর/








