সংস্কারের অপেক্ষায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী লস্কর খানবাড়ী মসজিদ

শাহরিয়ার মিল্টন, শেরপুর
২০ জুলাই ২০১৭, ১০:১৬আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৭, ১১:৫১

ঘাঘড়া লস্কর খানবাড়ী জামে মসজিদ (ছবি: শেরপুর প্রতিনিধি) প্রায় সোয়া দুইশ’ বছর আগের মুসলিম স্থাপত্যের ঐতিহাসিক নিদর্শন শেরপুরের ঘাঘড়া লস্কর খানবাড়ী জামে মসজিদ। এর তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব জাতীয় যাদুঘরের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের। তবে একযুগ পেরিয়ে গেলেও মসজিদটির সংস্কার হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। বাংলা ট্রিবিউনকে স্থানীয়রা জানান, অনুমতি না মেলায় নিজ উদ্যোগে মসজিদটি সংস্কারও করতে পারছেন না তারা।

লস্কর খানবাড়ী মসজিদটি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার হাতিবান্দা ইউনিয়নের ঘাগড়া লস্কর গ্রামে। শেরপুর জেলা সদর থেকে এর দূরত্ব ১৪ কিলোমিটার।  তবে ঘাগড়া লস্কর খান মসজিদ হিসেবেও এটি পরিচিত। মসজিদের গায়ে বর্তমানে যেসব নিদর্শন পাওয়া গেছে— সে অনুসারে ধারণা করা হয়, বক্সার বিদ্রোহীদের নেতা হিরোঙ্গি খাঁর বিদ্রোহের সময় মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল। আজিমোল্লাহ খান নামের একজন মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন।

জাতীয় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত সাইট পরিচারক (খাদেম)  মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ‘২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে জাতীয় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কর্মকর্তা সরেজমিন পরিদর্শন করে মসজিদটির সংস্কারের ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু এ আশ্বাসের কোনও বাস্তবায়ন হয়নি। এরপর আর কারও দেখা মেলেনি।’ ঘাঘড়া লস্কর খানবাড়ী জামে মসজিদ (ছবি: শেরপুর প্রতিনিধি)

মসজিদের বর্তমান ইমাম মুফতি রফিকুল ইসলাম ও খান পরিবারের সদস্য দুলাল খান জানান, ‘মসজিদটি দেখার জন্য প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী আসেন। ২০০৪ সালের পর থেকে মসজিদটিতে কোন রঙ করা হয়নি। মসজিদের ভেতর ও বাইরের বিভিন্ন অংশে শেওলা ধরে কালো হয়ে গেছে। দেয়ালের বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরেছে ও আস্তর খসে পড়ছে।’

খান পরিবারের সদস্য কামরুজ্জামান খান, আফজাল হোসেন খানসহ এলাকাবাসী ঐতিহ্যবাহী খান মসজিদটি সংরক্ষণ ও এর সৌন্দর্য্য ধরে রাখার জন্য সরকারের দৃষ্টি কামনা করেছেন।

ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এজেডএম শরীফ হোসেন বলেন, ‘মসজিদটি জাতীয় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে রয়েছে। সম্প্রতি মসজিদটি পরিদর্শন শেষে আমি জাতীয় জাদুঘর প্রত্নতত্ত্ব কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে অবহিত করেছি।’ ঘাঘড়া লস্কর খানবাড়ী জামে মসজিদ (ছবি: শেরপুর প্রতিনিধি)

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, মসজিদটির দরজার ওপর মূল্যবান কষ্টি পাথরে খোদাই করে আরবি ভাষায় হিজরি ১২২৮ এবং ইংরেজি ১৮০৮ সাল  উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠাকাল লেখা রয়েছে। মসজিদটির ভেতরে রয়েছে দুইটি সুদৃঢ় খিলান। এক গম্বুজবিশিষ্ট এ মসজিদটি বর্গাকার।  দৈর্ঘ্য ২৭ ফুট ও প্রস্থ ২৭ ফুট। উভয় দিকই সমান। মসজিদের মাঝখানে বড় গম্বুজের চারপাশ ঘিরে ছোট-বড় ১২টি মিনার। এরমধ্যে চার কোণায় রয়েছে চারটি। দরজা মাত্র একটি। ভেতরে মেহরাব ও দেয়ালে বিভিন্ন কারুকার্য করা ফুলদানী ও ফুলের নকশা। মসজিদের দেয়ালের গাঁথুনি চুন ও সুরকি দিয়ে গাঁথা।

তৎকালীন খান বাড়ির লোকজনসহ গ্রামের অনেকে মসজিদটির জন্য ৫৮ শতক জমি ওয়াকফ্ করে দেন।  এরমধ্যে  ৪১ শতক জমি জুড়ে রয়েছে কবরস্থান। এক গম্বুজবিশিষ্ট  মসজিদটির উত্তর এবং দক্ষিণ পাশে রয়েছে দুইটি জানালা। মসজিদের ভেতর ইমাম ছাড়া তিনটি কাতারে ১২ জন করে একসঙ্গে ৩৬ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। তবে মসজিদের বাইরের অংশে আরও প্রায় অর্ধশত মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।

/এনআই/এফএস/ 

আরও পড়ুন- ফেনীছড়া নদীর ভাঙনে কমে যাচ্ছে বাংলাদেশের ভূখণ্ড

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম