উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা খরচ বাড়লেও জামালপুরের পাইকারি বাজারে কমে গেছে ডিমের দাম। এ কারণে উৎপাদিত খরচের চেয়ে প্রতিটি ডিম প্রায় ১ টাকা কমে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন খামারিরা। তাদের দাবি, ডিম প্রতি প্রায় ৫ টাকা খরচ হলেও তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৪ টাকায়।
খামারিরা জানান, জামালপুর জেলায় সবমিলিয়ে পোল্ট্রি খামার রয়েছে এক হাজারের বেশি। এর মধ্যে সাড়ে ৫শ খামারে ব্রয়লার মুরগি উৎপাদন হয়। বাকিগুলো ডিম উৎপাদনকারী লেয়ার মুরগির খামার। খামারিদের দাবি, গত চার মাস আগেও প্রতিটি ডিম পাইকারি বাজারে সাত টাকায় বিক্রি হতো। তা এখন চার টাকায় নেমে এসেছে। রমজানের আগে হুট করেই ডিমের দাম কমে যায়, এরপর থেকে ডিমের বাজারে মন্দা চলছে।
এ ব্যাপারে জামালপুর শহরতলীর বামনপাড়া গ্রামের পোল্ট্রি ফার্মের মালিক রেজাউল খান মুক্তা বলেন, ‘১০ বছর ধরে পোল্ট্রি শিল্পের সঙ্গে আছি। কিন্তু এবার যেভাবে লোকসান হচ্ছে, এমনটি আগে কখনও হয়নি। প্রতিটি ডিমের উৎপাদন খরচ যেখানে প্রায় ৫ টাকা, সেখানে পাইকারি বাজারে ডিমের দাম নেমে এসেছে ৪ টাকায়। প্রতি ডিমে প্রতিদিন ১ টাকা করে লোকসান গুনতে হচ্ছে।’
লোকসান প্রসঙ্গে তিনি জানান, তার খামারে এখন ২ হাজার ৬শ মুরগি ডিম দিচ্ছে। সেখান থেকে গড়ে প্রতিদিন ২ হাজার ২শ ডিম পাওয়া যাচ্ছে। এই ২ হাজার ৬শ মুরগির জন্য তার দৈনিক খরচ হচ্ছে মোট প্রায় ১১ হাজার টাকা। এরমধ্যে খাদ্য বাবদ ১০ হাজার ৮০ টাকা, শ্রমিক ৬০০ টাকা, বিদ্যুৎ বিল ২০০ টাকা, ওষুধ ১০০ টাকা। কিন্তু এই ১১ হাজার টাকা খরচের বিপরীতে ২ হাজার ২শ ডিম বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে সর্বোচ্চ ৯ হাজার টাকা। গড়ে প্রতিদিন লোকসান হচ্ছে প্রায় ২ হাজার টাকা।
একই রকম অভিযোগ করেছেন বামনপাড়া এলাকার লেয়ার ফার্ম মালিক সুজন মিয়া, জহুরুল হক, আব্দুল হক, আশ্রাব আলী ও পুলিশ লাইন এলাকার পোল্ট্রি ব্যবসায়ী হাসু। অনেকেই ফার্ম বিক্রি করে পেশা পরিবর্তনের কথা ভাবছেন বলেও জানান।
এ ব্যাপারে জামালপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ-এর সভাপতি সৈয়দ মাহবুবুল গনি বাবলু বলেন, ‘লোকসানের ফলে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে জামালপুরের পোল্ট্রি খামারিরা। এই শিল্পকে বাঁচাতে ডিম রফতানির কোনও বিকল্প নেই।’ এজন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে পোল্ট্রি শিল্পে খাবার ও ওষুধসহ সবকিছুতে কেমিক্যাল ব্যবহার হচ্ছে। তাই বিদেশে এই ডিমের চাহিদা নেই। বিদেশিরা চায় স্বাস্থ্যসম্মত অর্গানিক পদ্ধতিতে উৎপাদিত মুরগি ও ডিম। সরকার উদ্যোগ নিয়ে পোল্ট্রি শিল্পকে অর্গানিক পদ্ধতিতে নিয়ে যেতে পারলে রফতানির ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসতে পারে।’
/এএইচ/বিএল/








