কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ঢাকি ইউনিয়নের চারিগ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিন ভাইসহ পাঁচ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ৩০ জন। বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে খাল, জলমহাল ও বাজারের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মিঠামইন থানার ওসি আলমগীর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন, চরিগ্রামের আব্দুল আজিজের তিন ছেলে মাসুম (৩৪), মাখন (৫২) ও ফরদিস (৫০) এবং একই গ্রামের সুজন মিয়ার ছেলে রাজিব (২৮) এবং ঢাকি ইউনিয়নের পূর্বহাটি গ্রামের মকবুল মিয়া (৩৫)।
এলাকাবাসী জানায়, ঢাকি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও চারিগ্রাম গ্রামের সোলায়মান ভূঁইয়া ও খাসটিঙ্গা গ্রামের পল্লব ভূঁইয়ার লোকজনের মধ্যে এলাকার খাল, জলমহাল, ও বাজারের আধিপত্ত বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিনের ধরে বিরোধ ছিল। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার দুপুরে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দু’পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। এ সময় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। পরে মিঠামইন থানা থেকে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষ ও নিহতের ঘটনার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
মিঠামইন থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানান, আহতদের ইটনা, মিঠামইন ও কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলের পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাস, পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন খানসহ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসাইন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন খান বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সব ধরণের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুই পক্ষকেই থানায় মামলা করতে বলা হয়েছে। এলাকায় গিয়ে আমরা লোকজনকে শান্ত থাকাতে বলেছি। জড়িতদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।’
সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক আজিমুদ্দিন বিশ্বাস বলেন, ‘পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, এলাকার চেয়ারম্যান ও মেম্বারসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে চারিগ্রাম বাজারে মিটিং করেছি। লোকজনকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।’
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁওয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় কৃষি কর্মকর্তা নিহত








