শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তবর্তী মরিয়ম নগর সাধু জর্জের ধর্মপল্লীতে গারোদের ওয়ানগালা (নবান্ন) উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন ধানে ফসলের মাঠ ভরে দেওয়ার জন্য গারোদের ফসলের দেবতা মিসি সালজংকে ধন্যবাদ জানাতে ও নতুন ফসল খাওয়ার অনুমতির পাশাপাশি সব পরিবারের মঙ্গল কামনা করে প্রতি বছর গারো সমাজের রীতি অনুযায়ী এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। রবিবার (২৬ নভেম্বর) সকালে মাটির প্রদীপ জ্বালানোর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয় এবং বাড়ি বাড়ি ঘুরে নাচ, গান ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে বিকালে নবান্ন উৎসব অনুষ্ঠান শেষ হয়।
ময়মনসিংহ নটরডেম কলেজের অধ্যক্ষ ফাদার জর্জ কমল রোজারিও সিএসসি ওয়ানগালা উৎসবে পুরোহিত্য করেন । মরিয়মনগর ধর্মপল্লীর ফাদার সুবল কুজুর সিএসসি’র সভাপতিত্বে ওয়ানগালার আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, মরিয়মনগর প্যারিস কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অঞ্জন আরেং, উপজেলা ট্রাইবাল ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান আলফন্স চিরান, সিস্টার ভিক্টোরিয়াসহ আরও অনেকে। পরে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে বিশেষ প্রার্থনায় অংশ নেন ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো সম্প্রদায়ের ১২টি গোত্রের নারী, পুরুষ ও শিশুরা । প্রার্থনা পরিচালনা করেন, ফাদার জর্জ কমল রোজারিও সিএসসি।
ওয়ানগালার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গারোদের নিজস্ব ভাষায় গান ও নৃত্য পরিবেশিত হয়। এদিকে মিশনের পাশে বসে জমজমাট মেলা। গারোদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকসহ শিশুদের নানা রকমের খেলনা বিক্রি করা হয় এ মেলায় ।
উল্লেখ্য, এক সময় গারো পাহাড়ি এলাকায় জুম চাষ হতো এবং বছরে মাত্র একটি ফসল হতো। তখন ওই জুম বা ধান ঘরে ওঠানোর সময় গারোদের শস্য দেবতা ‘মিসি সালজং’ কে উৎসর্গ করে এ উৎসবের আয়োজন করা হতো। কারণ হিসেবে জানাগেছে, গারোদের ওই শস্য দেবতা এক সময় পাহাড়ি এলাকার গারোদের হাতে কিছু শস্য দিয়ে বলেছিলেন, ‘তোমরা এটা রোপণ করো তাতে তোমাদের আহারের সংস্থান হবে এবং তোমরা যে শস্য পাবে তা থেকে সামান্য কিছু শস্য আমার নামে উৎসর্গ করবে।’
এরপর থেকেই গারোরা তাদের শস্য দেবতাকে এ ফসল উৎসর্গ করে আসছে। কিন্তু গারোরা খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার পর তাদের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক প্রথাটি এখন ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে একত্রে করে পালন করা হয়। অর্থাৎ এক সময় তারা তাদের শস্য দেবতা মিসি সালজংকে উৎসর্গ করে ওয়ানগালা পালন করলেও এখন তারা নতুন ফসল কেটে যিশু খ্রিস্ট বা ঈশ্বরকে উৎসর্গ করে ওয়ানগালা পালন করেন।
ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তবর্তী মরিয়মনগর খ্রিস্টান ধর্মপল্লীর নিয়ন্ত্রণে জেলার সদর উপজেলাসহ শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী এবং জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার গারো সমাজের ৪৭টি গ্রাম রয়েছে। এসব গ্রামে ১৯৮৫ সাল থেকে এখানে ওয়ানগালা উৎসব পালন করা হচ্ছে।








