ময়মনসিংহ জেলার ১২ উপজেলার ১৪১টি ইপিআই কেন্দ্রে টিকা না পেয়ে নবজাতক শিশুদের নিয়ে মায়েরা বাড়ি ফিরে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য সহকারীরা ইপিআই কার্যক্রম বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করায় এ ঘটনা ঘটেছে। টেকনিক্যাল স্কেল ও পদমর্যাদাসহ চার দফা দাবিতে সারাদেশের মতো ময়মনসিংহেও এই কর্মসূচি পালন হয়েছে।
ময়মনসিংহ সদরের মেডিক্যাল অফিসার ডা. সাদিয়া আফরিন মিতু জানান, সদরের ৬টি ইউনিয়নের ইপিআই কেন্দ্রে প্রায় ৩শ’ শিশুকে আজ টিকা দেওয়ার কথা ছিল। স্বাস্থ্য সহকারীদের কর্মবিরতির কারণে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি, টিকা না পেয়ে শিশু ও অভিভাবকরা ফিরে গেছেন।
জেলা সিভিল কার্যালয়ের তথ্য মতে, জেলার ১২টি উপজেলা ও ৩টি পৌরসভায় ১৫৬টি কেন্দ্রে ১ বছর বয়সী শিশুদের জন্য বিসিজি, পোলিও, টিটি, এমআর, আইপিভি, টিটেনাস, ডিপথেরিয়া, হোপিংকাশি, হেপাটাইটিস বি, ইনফ্লুয়েঞ্জাসহ ১০টি টিকা ইপিআইয়ের অধীনে দেওয়ার কথা ছিল। ময়নমসিংহ, মুক্তাগাছা ও গৌরীপুর পৌরসভার ১৫টি কেন্দ্রে ৫৮ জনের বিপরীতে ৫৫ জন শিশু টিকা পেয়েছে। তবে বাকি ১২ উপজেলার ১৪১টি কেন্দ্রে কি পরিমাণ শিশু টিকা পায়নি এই সংখ্যা জানাতে পারেনি সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. একেএম আব্দুর রউফ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, স্বাস্থ্য সহকারীদের আন্দোলনের কারণে আজ নির্ধারিত ডোজের ইপিআইয়ের আওতায় টিকা নিতে পারেনি শিশুরা।
ময়নমসিংহ সদরের দাপুনিয়া গ্রামের রমজার আলীর স্ত্রী কমলা বেগম তার ৬ মাস বয়সী মেয়েকে টিকা দেওয়ার জন্য এনেছিলেন। টিকা দিতে না পারায় সন্তানের শারীরিক কোনও সমস্যা হবে কি না তা নিয়ে চিন্তিত তিনি।
এ প্রসঙ্গে সিভিল সার্জন বলেন, তবে নির্ধারিত সময়ের পরে টিকা দেওয়ায় শারীরিক কোনও সমস্যা হবে না দাবি করে তিনি আরও জানান, আগামী ১০ দিনের মধ্যেই বঞ্চিত শিশুদের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
জেলা স্বাস্থ্য সহকারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন জানান, তারা দীর্ঘ দিন ধরে ৪ দফা দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন। দাবি আদায় না হওয়ায় বাধ্য হয়েই তারা টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। তবে শিশুরা টিকা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি। দ্রুত দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান হেলাল উদ্দিন।








