ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে নবজাতক বদল বিতর্কের অবসান হয়েছে। বিতর্কের এক মাস পর ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে প্রকৃত বাবা-মায়ের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে আলোচিত মেয়ে শিশুটিকে। বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) বিকালে হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে পুলিশ, কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সের উপস্থিতিতে বাবা-মায়ের কাছে শিশুটিকে তুলে দেওয়া হয়।
হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. লক্ষী নারায়ন মজুমদার জানান, ডিএনএ টেস্টের পর জটিলতার অবসান হয়েছে।
শিশুটির মা পাপিয়া জানান, গাইনী ওয়ার্ডে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের ভুলের কারণেই এমনটি হয়েছে। তারপরও ডিএনএ রিপোর্টে তাদের সন্তান হিসেবে পরিচয় মেলায় তারা এখন খুশি।
হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডের প্রধান ও ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আনোয়ার হোসেন জানান, হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে কোনও কারসাজি ছিল না, এটি প্রমাণিত হওয়ায় তিনিও গর্ববোধ করছেন।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান জানান, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে মানব পাচার মামলা করার পর আদালতের নির্দেশে ২১ ডিসেম্বর নবজাতক ওয়ার্ড থেকে বাচ্চা বদলের ঘটনায় বাবা-মায়ের শনাক্তকরণে ডিএনএ (ডাই-অক্সি রাইবো নিউক্লিক এসিড) প্রোফাইলিং পরীক্ষা করা হয়েছে। পুলিশের তত্ত্বাবধানে ঢাকার সিআইডি ডিএনএ ল্যাবে পরীক্ষা শেষে ওই শিশুর সঙ্গে মা-বাবার মিল রয়েছে, এমন রিপোর্ট পাওয়া যায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ সদরের বাদেকল্পা গ্রামের মনোয়ার হোসেন মনুর স্ত্রী পাপিয়া আক্তার ১০ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গাইনী লেবার ওয়ার্ডে নরম্যাল সন্তান প্রসব করেন। এসময় বলা হয় শিশুটি ছেলে। পাপিয়ার ভর্তির টিকিটেও শিশুর পরিচয় লেখা হয় ছেলে শিশু। শ্বাসকষ্টসহ কান্না না করায় ওইদিনই নবজাতক ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় শিশুটিকে। ১৮ ডিসেম্বর বিকালে ছুটি দেওয়ার সময় মেয়ে শিশুকে তুলে দেওয়ায় মা পাপিয়া আক্তার ছেলে শিশুর দাবি করলে এই বিপত্তি দেখা দিয়েছিল। পরে আদালতের মাধ্যমে ডিএনএ টেস্টের উদ্যোগ নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ। ডিএনএ টেস্টের পর নিশ্চিত হওয়ার পরই পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আদালতের নির্দেশে মা পাপিয়ার কাছে তুলে দেয় মেয়ে শিশুটিকে।








