নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও কমিউনিস্ট পার্টির মনোনীত তিন প্রার্থীই নারী। এই তিন নারী প্রার্থীই দিনরাত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাচ্ছেন এবং নানা প্রাতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ভোটারা এবার এমন একজনকে চান যিনি সব সময় হাওরের অবহেলিত মানুষের পাশে থাকবেন।
জেলার ৫টি সংসদীয় আসনের মধ্যে সর্বপ্রথম নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনে বিএনপির এমপি নূরুল আমিনের মৃত্যুর পর ২০০৩ সালের তার স্ত্রী খাদিজা আমিনকে উপ-নির্বাচনের জন্য দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। এরপর কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক খাদ্য মন্ত্রী আব্দুল মমিনের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী রেবেকা মমিনকে ২০০৮ সালের নির্বাচনে নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। রেবেকা মমিন নেত্রকোনা-৪ আসন থেকে ২০০৮ ও ২০১৪ সালে এমপি নির্বাচিত হন। এবারও তাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
এদিকে এ আসন থেকে ১৯৯১ এবং ২০০১ সালে বিএনপি থেকে এমপি নির্বাচিত হন লুৎফুজ্জামান বাবর। তিনি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীনি এ এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন বলে বিএনপি এবার বাবরের স্ত্রী তাহমিনা জামান শ্রাবণীকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে। তিনিও নিবার্চনের মাঠে বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
অপর দিকে এবার এ আসনে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি থেকেও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য এবং গার্মেন্টস ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদারকে। তিনিও দলীয় মনোনয়ন ও প্রতীক বরাদ্ধেও পর থেকে এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে ভোট চাইছেন।
খালিয়াজুরী উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের সীমা রাণী সরকার বলেন,‘এবার সব এমপি প্রার্থী নারী। তাই যে নারী সব সময় এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকবে তাকে ভোট দেব।’
প্রতিক বরাদ্দের পর পরই তিন প্রার্থী পথ সভা, কর্মী সভা ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিন নারী প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরাও সাধারণ ভোটাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে দোয়া ও ভোট প্রার্থনা করছেন।
ভোটাররা কেমন সাড়া দিচ্ছে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান এমপি রেবেকা মমিন বলেন, ‘নির্বাচনি পরিবেশ অত্যন্ত সুন্দর। যেখানে যাচ্ছি সেখানেই স্বতঃস্ফুর্ত সাড়া পাচ্ছি। আমি ১০ বছর ধরে এ আসনের এমপি হিসেবে জনগণের পাশে ছিলাম। আমি হাওরাঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়ন এবং হাওরবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে অবদান রেখেছি। আমি আশা করি, জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে আবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত করবেন।’
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তাহমিনা জামান শ্রাবণী বলেন, ‘নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। আমার স্বামী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং আমার জনপ্রিয়তা দেখে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা ঈর্ষাণিত্ব হয়ে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় বাঁধা সৃষ্টি করছে। অপরদিকে পুলিশ, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের প্রায় ৬ শতাধিক নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও এক হাজার নেতাকর্মীর নামে ৩টি গায়েবি মামলা দায়ের করেছে। নেতাকর্মীদের বাড়ি ঘরে হামলা ও গণ গ্রেফতার অব্যাহত রেখেছে। হামলা, মামলা ও গ্রেফতারের ভয়ে নেতাকর্মীরা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। সারাদেশে বিএনপি প্রার্থীদের ওপর যেভাবে হামলা হচ্ছে, তাতে আমি আতঙ্কিত, কখন আমার ওপর হামলা হয়। তারপরও ভোটাররা যদি ভোট কেন্দ্রে যেতে পারে এবং নিরাপদে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে তাহলে আমি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো, ইনশাল্লাহ।’
বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী জলি তালুকদার বলেন, ‘নির্বাচন করার কোনও সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা রাতের আঁধারে আমার পোস্টার ছিড়ে ফেলছে। দলীয় নেতাকর্মীরা নির্বাচনি প্রচার প্রচারণায় বাঁধা দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমার গণসংযোগে হামলা চালিয়ে আমিসহ ৭ নেতাকর্মীকে আহত করেছে। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন তাদের ব্যাপারে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এ নির্বাচন প্রহসনে পরিণত হতে যাচ্ছে।








