আজ খাটুয়াপাড়া গণহত্যা দিবস

শেরপুর প্রতিনিধি
০৬ জুলাই ২০১৯, ২১:৪২আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৯, ২২:৩৪

 

কালের সাক্ষী হয়ে আছে ঝিনাইগাতী উপজেলার ঐতিহাসিক কাঁটাখালী ব্রিজ ১৯৭১ সালের এই দিনে (৬ জুলাই,) শেরপুরের রাঙামাটিয়া খাটুয়াপাড়া গ্রামে ঘটেছিল বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ। এই যুদ্ধে শহীদ হন কোম্পানি কমান্ডার নাজমুল আহসান, আলী হোসেন ও মোফাজ্জল হোসেনসহ নাম না জানা আরও অনেক মুক্তিকামী জনতা। স্বাধীনতার চার যুগ পেরিয়ে গেলেও তালিকায় নাম নেই খাটুয়াপাড়া গ্রামের শহীদদের, নেই কোনও স্মৃতিস্তম্ভ, কালের সাক্ষী হয়ে পড়ে আছে ঐতিহাসিক কাঁটাখালী ব্রিজটি।

১৯৭১ সালের ৪ জুলাই ভোরে কোম্পানি কমান্ডার এন এম নাজমুল আহসানের নেতৃত্বে ৫৩ জনের মুক্তিযোদ্ধার দল অবস্থান নেন রাঙামাটিয়া গ্রামে আতর আলীর বাড়িতে। পরিকল্পনা মতে ৫ জুলাই রাতে সফলতার সঙ্গে অপারেশন শেষ করে মুক্তিযোদ্ধারা দুটি দলে বিভক্ত হয়ে আশ্রয় নেয় খাটুয়াপাড়ার হাজী নঈমদ্দিন ও হাজী শুকুর মামুদের বাড়িতে। বাড়ির চারপাশে ছিল প্রশস্ত বিল। মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান টের পেয়ে এলাকার রাজাকাররা ঝিনাইগাতী আহম্মদ নগর পাকিস্তানি  ক্যাম্পে খবর দেন।

এন এম নাজমুল আহসানের ভাই এন এম কামরুল আহসান জানান, ৬ জুলাই সোমবার সকালে কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই গ্রামে প্রবেশের একটি মাত্র কাঁচা সড়কের দুদিক থেকে ব্যারিকেড দেয় পাকসেনা ও রাজাকার-আলবদররা। গ্রামবাসীদের অনুরোধে মুক্তিযোদ্ধারা বিলের পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মরক্ষার্থে গুলি করতে করতে পিছু হটে। এ সময় পাকহানাদারদের বেপরোয়া গোলা বর্ষণে কোম্পানি কমান্ডার ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদের শেষ বর্ষের মেধাবী ছাত্র এন এম নাজমুল আহসান, তার চাচাতো ভাই মোফাজ্জল হোসেন ও ভাতিজা আলী হোসেন শহীদ হন। বাকি মুক্তিযোদ্ধারা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান পেলেও, বর্বরোচিত হামলার শিকার হন খাটুয়াপাড়া রাঙামাটিয়া গ্রামের বাসিন্দারা। তাদের ৬০-৭০ জনকে কোমরে দড়ি বেঁধে লাঠিপেটা করতে-করতে নিয়ে যাওয়া হয় খাটুয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে। আগুন লাগিয়ে দেয় বাড়িঘরে। অমানবিক নির্যাতন করে লাইনে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে ৬ জন গ্রামবাসীকে। তারা হলেন-  আয়াতুল্লা, সামেছ মিস্ত্রি, মহেন্দ্র অধিকারী, আব্বাছ আলী, আমেজ উদ্দিন ও বাদশা আলী। আহত হন অনেকে। দালালদের বাধার মুখে সেদিন লাশও দাফন করতে পারেননি শহীদদের স্বজনরা। কলার ভেলায় তারা লাশ ভাসিয়ে দিয়েছিলেন নদীতে।

কালের সাক্ষী হয়ে আছে ঝিনাইগাতী উপজেলার ঐতিহাসিক কাঁটাখালী ব্রিজ এলাকাবাসীর দাবি মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদ তিন বীর মুক্তিযোদ্ধার পাশাপাশি নিরীহ ছয় গ্রামবাসীকেও শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার। এদিকে শেরপুরের সচেতন মহলের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ঐতিহাসিক কাঁটাখালী ব্রিজটি ভেঙ্গে ফেলার পরিবর্তে ওইখানে একটি স্মৃতিফলক নির্মাণ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে ব্রিজটি সংরক্ষণ করা হয়েছে।

শেরপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার নূরুল ইসলাম হিরো বলেন, ‘ইতোমধ্যে সরকার রাঙামাটিয়া খাটুয়াপাড়া গ্রামের একাত্তরে নির্যাতনের শিকার চার নারীকে বীরাঙ্গনা খেতাবে ভূষিত করেছেন। নালিতাবাড়ির সন্তান ও বর্তমান নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুস সামাদ সম্প্রতি ডিও লেটার দিয়েছেন ওই গ্রামে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিফলক নির্মাণের জন্য। এছাড়া এলজিইডির মাধ্যমে রাঙামটিয়াসহ জেলার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত সব স্থানে ফলক নির্মাণের জরিপ করা হলেও আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি।’ নূরুল ইসলাম হিরো এসব কাজ দ্রুত সম্পাদনের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

 

 

/এনআই/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
জয়পুরহাটে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারালেন ২ জন
জয়পুরহাটে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারালেন ২ জন
শিশু রামিসা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক আজ, জানা যাবে রায়ের তারিখ
শিশু রামিসা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক আজ, জানা যাবে রায়ের তারিখ
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম