শেরপুরে বন্যার অবনতি, নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত

শেরপুর প্রতিনিধি
২০ জুলাই ২০১৯, ১৮:৩৩আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৯, ১৮:৪৭

বেতমারি বেড়িবাঁধ প্রায় ২০০ ফুট ভেঙে গেছে (ছবি– প্রতিনিধি)

পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি শেরপুর ফেরিঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের শাখা মৃগী নদীতে পানির চাপ বাড়ায় সদর উপজেলার বেতমারি-ঘুঘুরাকান্দি ইউনিয়নের বেতমারি বেড়িবাঁধ প্রায় ২০০ ফুট ভেঙে গেছে। এতে চরপক্ষীমারী, কামারেরচর, বলাইয়েরচর, বেতমারি-ঘুঘুরাকান্দি ও চরশেরপুর ইউনিয়নের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এদিকে, পোড়ার দোকান ও শিমুলতলি ডাইভারশনের ওপর দিয়ে প্রায় ৮ ফুট উচ্চতায় বন্যার পানি প্রবাহিত হওয়ায় শেরপুর-জামালপুর মহাসড়কে দ্বিতীয় দিনের মতো যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বেতমারি এলাকার বাসিন্দা রমজান আলী, সোরহাব উদ্দিন, ফকির মাহমুদসহ অনেকে জানান, হঠাৎ বেড়িবাঁধে ভাঙায় বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। তারা খুবই কষ্টে আছেন।

বেতমারি ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. হাফিজুর রহমান জানান, স্থানীয় লোকজন বালির বস্তা ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়েছেন।

শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষিমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আকবর আলী বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চরাঞ্চলের বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেছে। আমার ইউনিয়নে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বীজতলা, সবজির আবাদ ডুবে গেছে। মাছ চাষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কুলরচর-বেপারিপাড়া এলাকার ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে গেছে। প্রায় ২শ’ পরিবার বেপারিপাড়া সরকারি প্রাইমারি স্কুলে আশ্রয় নিয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী চুনিয়ারচর, সাতপাকিয়া, কুলুরচর, ডাকপাড়া এবং দিকপাড়া এলাকায় শুরু হয়েছে নদীভাঙন। বন্যার্তরা কী খাবেন, কোথায় যাবেন, কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না। স্থানীয় প্রশাসনকে আমি বিষয়টি অবহিত করে জরুরি সহায়তা চেয়েছি।’

এদিকে, শনিবার (২০ জুলাই) দুপুরে বেতমারি বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শনে যান শেরপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আতিউর রহমান আতিক। এসময় তিনি বন্যাদুর্গতদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় সাহায্য-সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্র জানায়, বন্যায় জেলার ১২৫ হেক্টর সবজিক্ষেত, ৭৪৭ হেক্টর রোপা আমন ধানের বীজতলা এবং ১৬৫ হেক্টর জমির আউশ ধানের ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে। বন্যায় জেলার বিভিন্ন পুকুর, জলাশয় এবং খামারের মাছ ভেসে গেছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুর রউফ জানান, এপর্যন্ত জেলার ৩৫টি ইউনিয়নের ১৭২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ৬৩ হাজার মানুষ বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছেন। ১৫৩ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা, ২ দশমিক ৭ কিলোমিটার বাঁধ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলায় বন্যার্তদের মাঝে ৩৫ মেট্রিক টন চাল বিতরণের পর আরও ৭০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে শেরপুর সদর উপজেলায় ৫০ মেট্রিক টন ও ঝিনাইগাতী উপজেলায় ২০ মেট্রিক টন চাল বিতরণের প্রস্তুতি চলছে। এ ছাড়া, সদরে আরও নগদ একলাখ টাকা বিতরণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, বন্যার্তদের সহায়তায় ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে ২শ’ টন চাল, ৫ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ও নগদ ৩ লাখ টাকা জরুরি বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। ৫২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ওঠায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে শেরপুর সদর, ঝিনাগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলায় ছয় শিশুসহ সাতদিনে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

/এমএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক