জামালপুরের বকশীগঞ্জে একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার কক্ষে ঢুকে তাকে লোহার রড দিয়ে পেটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে সাবেক ইউপি সদস্য হামিদুর রহমান ফর্সার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার নিলাক্ষিয়া ইউনিয়নের সাজিমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ, কে, এম মাহবুবুল আলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আহত প্রধান শিক্ষিকা আফরোজা সুলতানা বীনা বকশীগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সাজিমারা গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য হামিদুর রহমান ফর্সা সাজিমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রার্থী হতে চান। এ কারণে রাফিউল ইসলাম রাফি নামে এক শিশুকে নিজের ছেলে পরিচয় দিয়ে তিনি স্কুলে ভর্তি করান। হামিদুর রহমান ফর্সার প্রতিদ্বন্দ্বীরা বিষয়টি প্রধান শিক্ষিকা আফরোজা সুলতানা বীনাকে জানান। এ বিষয় সমাধানে প্রধান শিক্ষিকা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সাত্তারের কাছে একটি প্রত্যয়নপত্র চান। ইউপি চেয়ারম্যান তার দেওয়া প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করেন, স্কুলছাত্র রাফিউল ইসলাম রাফির বাবা দাবি করে হামিদুর রহমান ফর্সা যে জন্মসনদ দাখিল করেছেন তা ভুয়া। স্কুলছাত্র রাফির বাবার নাম হাবিবুর রহমান বইতুল্লাহ। চেয়ারম্যানের কাছে প্রত্যয়নপত্র চাওয়ায় প্রধান শিক্ষিকার ওপর ক্ষুব্ধ হন হামিদুর রহমান ফর্সা। এরই জের ধরে আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ১১টার দিকে বিদ্যালয়ে ঢুকে আফরোজা সুলতানা বীনার ওপর হামলা চালান হামিদুর রহমান ফর্সা।
স্কুলের সহকারী শিক্ষক তারিকুজ্জামান ছোটন বলেন, ‘ফর্সা স্কুলে একটি লোহার রড নিয়ে এসে প্রধান শিক্ষিকার কক্ষে ঢুকে ভেতর থেকে কক্ষটি বন্ধ করে প্রধান শিক্ষিকাকে বেদম পিটাতে থাকে। পরে অন্য শিক্ষক ও গ্রামবাসী এসে প্রধান শিক্ষিকাকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করেন।’
প্রধান শিক্ষিকা আফরোজা সুলতানা বীনা বলেন, ‘হঠাৎ অফিস কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে লোহার রড দিয়ে আমাকে মারধর শুরু করে ফর্সা। লোহার রডের আঘাতে আমার হাত-পা ভেঙে গেছে।’
গা-ঢাকা দেওয়ায় চেষ্টা করেও হামিদুর রহমান ফর্সার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অরুণা রায় বলেন, ‘ঘটনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বকশীগঞ্জ থানার ওসি এ, কে, এম মাহবুবুল আলাম বলেন, ‘ঘটনা সত্য। আসামিকে গ্রেফতারে অপারেশনে বের হয়েছি। তবে এখনও মামলা দায়ের হয়নি।’







