প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম!

২৩ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না সহকারী শিক্ষকরা

জামালপুর প্রতিনিধি
২২ আগস্ট ২০২০, ১৯:৩৮আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২০, ২০:২৫

 

বাট্টাজোড় নগর মামুদ উচ্চ বিদ্যালয়

জামালপুরের বকশীগঞ্জে বাট্টাজোড় নগর মামুদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা ২৩ মাস ধরে বেতনভাতা পাচ্ছেন না। ফলে হতাশায় পড়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক-কর্মচারীরা।

এদিকে বিদ্যালয় প্রদত্ত বকেয়া বেতনভাতা চাইতে গেলে উল্টো শিক্ষকদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, হুমকি, দুর্ব্যবহার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক সহিজল হকের বিরুদ্ধে। নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম হ-য-ব-র-ল অবস্থায় পড়েছে।
লিখিত অভিযোগ ও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে বিদ্যালয়টির শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনভাতা পরিশোধ না করে নানা টালবাহানা করছেন প্রধান শিক্ষক সহিজল হক।
গত ১৫ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রাতিষ্ঠানিক বকেয়া বেতনভাতা ও আয় ব্যয়ের হিসাব চাইতে গেলে শিক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ’সহ নানান হুমকি-ধমকি প্রদান করেন প্রধান শিক্ষক।
এ নিয়ে গত ১৭ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, নোট গাইডের কমিশন বাণিজ্য, অর্থ আত্মসাৎ, ফরম ফিলাপের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে চাঁদা আদায়’সহ বিভিন্ন অভিযোগে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ৮ সহকারী শিক্ষক। 
এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের শিক্ষা ও কল্যাণ শাখা থেকে প্রধান শিক্ষক সহিজল হকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সত্যতা যাচাই করে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করায় ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রুহুল আমিনকে লাঞ্ছিত ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। হুমকির বিষয়ে রুহুল আমিন গত ১১ মার্চ বকশীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জানান, প্রধান শিক্ষকের কারণে বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তিনি নিজের দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় পেশি শক্তির ব্যবহার করছেন। এতে করে সাধারণ শিক্ষকরা চরম হুমকিতে রয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বাট্টাজোড় নগর মামুদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহিজল হকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, গত বার্ষিক পরীক্ষার সময় আমি বিদ্যালয়ে না থাকায় কতিপয় শিক্ষক সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি নিয়ে বিদ্যালয়ে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। এ কারণে বিদ্যালয়ের ফান্ড না থাকায় শিক্ষকদের বেতনভাতা পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
জামালপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তারী ইভা জানান, এসব বিষয়ে শিক্ষকদের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। প্রধান শিক্ষককে ডেকে বিষয়টি সমাধান করা হবে।

/আরআইজে/এমএমজে/
সম্পর্কিত
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লেনদেন ব্যাংক ও এমএফএসের জন্য উন্মুক্ত করার সুপারিশ 
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের থেকে বেতন নিলে শাস্তির মুখে পড়বে প্রতিষ্ঠান
যে কারণে বেসরকারি স্কুল-কলেজে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়োগ দিচ্ছে সরকার
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম