লিচু বেচে দোতলা বাড়ি!

জামালপুর প্রতিনিধি
০৪ জুন ২০২১, ১২:২১আপডেট : ০৪ জুন ২০২১, ১২:২১

পড়াশোনা শেষ করে অন্যদের মতো চাকরির পেছনে ছোটেননি জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নের কানিল গ্রামের আব্দুস সেলিম। বাবা আব্দুল কাদেরের সঙ্গে কথা বলে নিজেদের জমিতে গড়ে তোলেন লিচুর বাগান। সেই বাগানে বিষমুক্ত লিচু চাষ করে ভাগ্যবদল করেছেন সেলিম। লিচু বিক্রির টাকা দিয়েই তিনি গড়েছেন দোতলা বাড়ি। নরুন্দি বাজারে গড়ে তুলেছেন অত্যাধুনিক ডায়াগনোস্টিক সেন্টার। পাশাপাশি বাজারে দিয়েছেন হোমিওপ্যাথি ওষুধের চেম্বার।

নিজের ভাগ্যবদলের গল্প করতে গিয়ে সেলিম বলেন, নিজ হাতে গড়ে তোলা বাগানের গাছে কখনও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য কিংবা কীটনাশক ব্যবহার করিনি। শুধুমাত্র বাগানে জৈব সার ব্যবহার করেই বিষমুক্ত উন্নত বারি-৪ জাতের লিচু ফলানো হয়। আর তাই এই লিচু সারা জেলায় জনপ্রিয়। সেই লিচুর টাকায় গুরে গেছে আমার ভাগ্যের চাকা।

জানা যায়, আব্দুস সেলিম ২০১৩ সালে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে মাস্টার্স কোর্স সম্পন্ন করেন। এর কয়েক বছর আগে তিনি ২০১০ সালে বাবার এক একর জমির ওপর গড়ে তোলেন বিশাল লিচু বাগান। লিচু পাকানো ও লিচুর রঙ সুন্দর করার জন্য অনেকেই বাগানে রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করেন, তবে সেলিম এর ঘোর বিরোধী। অবশ্য ফলনের শুরুতে পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে ফলন রক্ষায় সামান্য কীটনাশক প্রয়োগ করেন বলে জানান তিনি। তার বাগানে ১২০টি লিচুর গাছ রয়েছে। চলতি বছর প্রতিটি গাছেই ফলনও হয়েছে বেশ।

দেশের বিভিন্ন স্থানে যায় সেলিমের বাগানের বিষমুক্ত লিচু সেলিম জানান, বাগানের লিচু ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হয়। চলতি বছরের ২০ মে থেকেই সেলিম তার বাগানের লিচু বিক্রি শুরু করেছেন। কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মওসুমে বাগান থেকে চার লাখ টাকা আয় করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, লিচু বাগানের ওপর যুব উন্নয়ন অধিদফতরসহ বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহন করেছি। গেলো বছর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতাধীন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পের ওপর এক মাসের প্রশিক্ষণও নিয়েছি।

বিষমুক্ত লিচু দিয়ে নিজের ভাগ্যবদলের পাশাপাশি অন্যদেরও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন সেলিম। তার বাগানে লিচু সংগ্রহ ও পরিচর্যায় ১০ জন শ্রমিক কাজ করছেন। পরিচর্যার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের মধ্যে সুলতান মিয়া, মতি মিয়া ও মোতালেব মিয়া বলেন, আগে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে কাজ করতাম। আর এখন লিচু বাগান হওয়াতে এখানেই কাজ করি। এখন আর বাইরে কাজ খুঁজতে হয় না।

সেলিম জানান, বাগানে সার প্রয়োগের জন্য ৩০ হাজার টাকার মতো ব্যয় হয়। এছাড়া রাতের বেলায় বাগানের লিচু রক্ষায় তিনিই প্রতিদিন রাত জেগে পাহারা দেন। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ডাক্তার, শিক্ষক ও চাকরিজীবীরা মওসুম শুরুর আগেই লিচু নিতে যোগাযোগ করেন বলে জানান সেলিম। 

এদিকে সেলিমের লিচু বাগান দেখে তার মতো অনেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করছেন। ইতোমধ্যে মোফাজ্জল হোসেন, আব্দুস সামাদ ও ইসমাইল হোসেনসহ অনেকেই লিচুর বাগান করেছেন। তবে তাদের লিচু বাগানের গাছ এখনও ছোট। আরও কয়েক বছর লাগবে ফলন আসতে।

জামালপুর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মঞ্জুরুল কাদির বলেন, বারি-৪ জাতের লিচু ২০০৮ সাল থেকে চাষাবাদের অনুমতি পায়। রসালো ও সুস্বাদু এই লিচু জাতটি আবাদ করে কৃষকেরা ইতোমধ্যে ভালো ফল পেয়েছে। উচ্চ ফলনশীল বারি-৪ জাতের একটি লিচু গাছে প্রতি বছর পাঁচ হাজার লিচু পাওয়া যায়। ফলে যে কেউ এই জাতের লিচুর আবাদ কলে স্বাবলম্বী হতে পারবেন।

 

/টিটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম