কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলায় বিনামূল্যের বই বিতরণে টাকা নেওয়ার অভিযোগে ২৩ নং পানান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আফাজ উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।রবিবার সন্ধ্যায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালক (ডিডি) শাহসুফি মো. আলী রেজা তাকে বরখাস্ত করেন।
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে এ আদেশ সম্বলিত একটি চিঠি এসেছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম মাওলা জানান, প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ পাওয়ায় ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে অধিকতর তদন্তের জন্য হোসেনপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিনামূল্যের এ বই বিতরণে টাকা নেওয়ার অভিযোগে গতকাল শনিবার ‘টাকার বিনিময়ে পাঠ্যবই: তদন্তে মিলেছে সত্যতা’ শিরোনামে বাংলা ট্রিবিউনে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়।
এর আগে, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে পানান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যের পাঠ্যবই টাকার বিনিময়ে দেওয়ার যে অভিযোগ ওঠে তদন্তে তার সত্যতা মেলে। এরপর তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে পাঠানো হয়। শনিবার বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রধান তদন্তকারী ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগের ভিত্তিতে পাঠ্যবইয়ের বিনিময়ে টাকা নেওয়ার বিষয়টির তদন্ত ৬ জানুয়ারি সম্পন্ন হয়। ৭ জানুয়ারি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম মাওলার মাধ্যমে তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে পাঠানো হয়।
ওই তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা জানতে পেরেছি বই বিতরণের সময় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণির প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সেশন ফি বাবদ ২০০ টাকা করে নিয়েছে। টাকা যারা দিতে পারেনি, তাদেরকে বই দেওয়া হয়নি। এছাড়া ১ম ও ২য় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বার্ষিক চাঁদা বাবদ ২০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও সব শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পাঁচ টাকা করে নেওয়া হয় অন্ধকল্যাণ সংস্থার নামে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম মাওলা-যিনি তদন্ত প্রতিবেদনটি পৌঁছে দেন- তিনি বলেন, বিনামূল্যের বই বিতরণে যেন কোনও আর্থিক লেনদেন না হয় সে বিষয়ে একটি নির্দেশনাপত্র আগেই জেলার প্রত্যেকটি স্কুলে পাঠানো হয়।কিন্তু, ওই স্কুলটিতে তা মানা হয়নি।
তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে পৌঁছেছে। আশা করছি আগামী দুই দিনের মধ্যেই উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে টাকা নেওয়ার বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আফাজ উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষকের ঘাটতি থাকায় ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে দুইজন খেলাধুলার শিক্ষক রাখা হয়েছে। প্রতি মাসে তাদের তিন হাজার টাকা করে সম্মানী দিতে হয়। এ টাকা জোটাতেই প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২০ টাকা ধরা হয়েছিল। কিন্তু এই টাকা শিক্ষার্থীরা দিতে চায় না বলেই বই বিতরণের আগে তা আদায় করা হয়েছে।
অন্ধকল্যাণ সংস্থা ও সেশন ফি-র নামে টাকা নেওয়ার বিষয়েও তিনি একই যুক্তি দেন।
/এআর/








