ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ইলিম উদ্দিনকে (৭৫) পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আরও ১০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার উপজেলার পাগলা থানাধীন চৌকা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পাগলা থানার ওসি চান মিয়া এ তথ্য জানান।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার পাঁচবাগ ইউনিয়নের চৌকা গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ নেতা ইলিম উদ্দিনের সঙ্গে প্রতিবেশী বিএনপি সমর্থক কেরামত আলী গোলাপ ব্যাপারীর বিরোধ চলে আসছিল দীর্ঘদিন। এ ঘটনার জের ধরেই ইলিম উদ্দিনকে খুন করা হয়। নিহত ইলিম উদ্দিন পাঁচবাগ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন।
স্থানীয় পাগলা থানার ওসি চান মিয়া জানান, জমির সীমানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, শনিবার সকাল ১১টার দিকে বিরোধপূর্ণ বসতভিটার জমিতে প্রতিপক্ষ বিএনপি সমর্থক কেরামত আলী ও তার সঙ্গীরা ঘর ওঠানোর চেষ্টা করলে আওয়ামী লীগ নেতা ইলিম উদ্দিন ও তার সমর্থকরা তাতে বাধা দেন। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে কেরামত, গোলাপ ব্যাপারীর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতা ইলিম উদ্দিনকে বেধড়ক পেটান। এতে ঘটনাস্থলেই ইলিম উদ্দিন মারা যান। হামলায় বাধা দিতে গিয়ে আহত হয়েছেন নিহতের ছোট ভাই কলিম উদ্দিন, হাফিজ উদ্দিন, মেয়ে সাবিনা বেগম, ভাইয়ের বউ সুফিয়া বেগম ও পারভীন আক্তারসহ কমপক্ষে ১০ জন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হওয়া হয়েছে।
নিহতের ছোট ভাই কলিম উদ্দিন জানান, এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী কেরামত, গোলাপ ব্যাপারী ও জজ মিয়ার সঙ্গে বসতভিটার ৩৩ শতাংশ জমি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আদালতে মামলা চলে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদালতের নির্দেশ মোতাবেক পাগলা থানা পুলিশ উভয় পক্ষকে বিরোধপূর্ণ বসতভিটা জমিতে ঘর ঊঠাতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। আদালতের নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করে কেরামত আলী ও তার সঙ্গীরা জমিতে ঘর ওঠানোর চেষ্টা করেন। ঘর উঠাতে বাধা দিলে আমার বড় ভাই ইলিম উদ্দিনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।
/এসএম/এমএনএইচ/








