ঢাকার বনশ্রীতে নিজের দুই সন্তান ‘হত্যাকারী’ মা মাহফুজা মালেক জেসমিনদের জামালপুর জেলার ইকবালপুরের বাসায় কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। বাসায় একজন নারী সদস্য থাকলেও সকাল থেকে তিনি ঘরের দরজা বন্ধ করে আছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।
ইকবালপুরের প্রতিবেশীরা জানান, বুধবার রাতে অরনী ও আলভীর মা-বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র্যাব ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পর পরিবারের প্রায় সবাই সেখানে চলে গেছেন।
প্রতিবেশীরা আরও জানান, শিশু দুটির বাবা আমানুল্লাহ ও মা জেসমিন দম্পত্তির পৈতৃক বাড়ি ইসলামপুর উপজেলার নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের রায়েরপাড়া গ্রামে। তারা চাচাতো ভাইবোন। যমুনা নদীর ভাঙনে বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেলে আমানুল্লাহ ঢাকায় চলে যান আর জেসমিনের বাবা এমএ মালেক ইকবালপুরে বাড়ি করে বসবাস শুরু করেন। আমানুল্লাহর সঙ্গে বিয়ের পর থেকে জেসমিন ঢাকায় চলে যান। কদাচিৎ তারা ইকবালপুরের বাসায় আসতেন। ফলে তাদের সম্পর্কে এলাকাবাসী কোনও ধারণা দিতে পারেননি।
উল্লেখ্য, নুসরাত আমান অরনী (১২) ও আলভী আমান (৭) নামের দুই শিশু সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন তাদের মা জেসমিন, জিজ্ঞাসাবাদের পর এমন তথ্য দিয়েছে র্যাব। শিশু দুটি খাদ্যে বিষক্রিয়ায় মারা গেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসকদের সন্দেহ হওয়ায় ময়না তদন্ত করে হত্যার আলামত পাওয়া যায়। এরপর র্যাব তাদের মা-বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। দুই সন্তানের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে তাদের হত্যা করেন বলে র্যাবের কাছে স্বীকার করেন জেসমিন। তবে এর সঙ্গে বাবার কোনো সংশ্লিষ্টতা এখনও পাওয়া যায়নি।
/বিটি/এজে/








