কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় চার বছরের শিশু ইমরানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বাবা কাশেম মিয়া। রবিবার কিশোরগঞ্জ জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম জগলুল হকের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন তিনি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পাকুন্দিয়া আহুতিয়া তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) মতিয়ুর রহমান জানান, ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে কাশেমকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এসআই আরও জানান, স্ত্রী মরিয়মের সঙ্গে পারিবারিক কলহের জেরে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ঘরে থাকা ধান কাটার কাস্তে দিয়ে নিজেই সন্তানকে জবাই করে মেঝেতে পুঁতে রাখার কথা জানিয়েছেন কাশেম মিয়া।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার জুনাইল গ্রামের রিকশাচালক কাশেম মিয়া মাদকাসক্ত। এজন্য সাংসারিক কাজে তার মনোযোগ ছিল না। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া লেগে থাকত। কিছুদিন আগে স্ত্রী মরিয়ম আক্তার ছেলে ইমরানকে পাশের গ্রামে দাদার বাড়িতে রেখে মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় চলে যান। বৃহস্পতিবার কাশেম মিয়া তার বাবা সুলতান মিয়ার কাছে যান। ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তিনি ইমরানকে সেখান থেকে নিয়ে চলে আসেন। এরপর থেকে ইমরানের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। এতে ইমরানের দাদার বাড়ির লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে শনিবার দুপুরে ইমরানের দাদা সুলতান মিয়া ইমরানকে খুঁজতে ছেলের বাড়িতে যান। সেখানে একটি পরিত্যক্ত ঘরে দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ গিয়ে ঘরের মাটি খুঁড়ে ইমরানের লাশ উদ্ধার করে। পরে ইমরানের বাবা কাশেমকে আটক করে পুলিশ।
এ ঘটনার পর ইমরানের মা মরিয়ম আক্তার স্বামী কাশেমের বিরুদ্ধে পাকুন্দিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন।
/বিটি/এএইচ/








