ময়মনসিংহের ফুলপুরের ৪ নম্বর রূপসী ইউনিয়ন ডিজিটাল সেবাকেন্দ্রের উদ্যোক্তা নিজাম উদ্দিনকে মারধর, অফিস সংলগ্ন ব্যাংক সেবার টাকা ও চাবি ছিনতাই এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী সরকার ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী উদ্যোক্তা নিজাম উদ্দিন গত ১৫ জুলাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের অনুলিপি ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, ২০০৪ সাল থেকে রূপসী ইউনিয়ন ডিজিটাল সেবাকেন্দ্রের উদ্যোক্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন নিজাম উদ্দিন। কিছুদিন আগে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল করিম খান ও সদস্য লিয়াকত আলী সরকার তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে ইউনিয়ন অফিস ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেন। গত ১২ জুলাই দুপুরে উপজেলা বিএনপির সদস্য লিয়াকত আলী সরকারের অনুসারীরা নিজাম উদ্দিনকে রূপসী বাজারের একটি চা-স্টলে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে লিয়াকত আলী অফিস ছেড়ে না যাওয়ার কারণ জানতে চেয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করেন।
অভিযোগে নিজাম উদ্দিন জানান, মারধরের একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তার কাছে থাকা ব্যাংক এশিয়া এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের গচ্ছিত টাকা, ডিজিটাল সেন্টারের চাবি ও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেন। অফিসে পুনরায় গেলে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়। পুরো ঘটনার ভিডিওচিত্র স্থানীয়েদের মাধ্যমে সংগ্রহে রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পরদিন এক বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও তাকে পুনরায় হুমকি দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উদ্যোক্তা নিজাম উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘লিয়াকত আলী ও তার অনুসারীরা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় বর্তমানে আমি ডিজিটাল সেবাকেন্দ্রে যেতে পারছি না। এতে সাধারণ জনগণ সেবা নিতে এসে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সরকারি সেবা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। আমি নিরাপত্তা ও সুবিচার চাই।’
এ ঘটনায় ফুলপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তাকে জানানো হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ফুলপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য লিয়াকত আলী সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি রূপসী বাজারে যাওয়ার পর দেখতে পাই স্থানীয় কিছু লোকজন উত্তেজিত হয়ে উদ্যোক্তা নিজামকে মারধরের চেষ্টা করেন। তাদের অভিযোগ ছিল বয়স্ক ও বিধবা ভাতাসহ অন্যান্য কার্যক্রম ঠিকমতো নিজাম করছিলেন না। এ কারণে তারা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এ সময় আমি বাজারে নিজামকে দুটি থাপ্পড় দিই। এর চেয়ে বেশি কিছু আর করা হয়নি। পরে নিজাম আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।’
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিএনপি নেতা লিয়াকত আলীর সঙ্গে নিজাম উদ্দিনের কথা কাটাকাটি এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে, এটুকুই জানি। ডিজিটাল সেন্টার থেকে টাকা লুটপাটের ঘটনার মিথ্যা অভিযোগ করেছেন নিজাম। বিষয়টি তার সঙ্গে আলোচনা করে আমরা সমাধানের চেষ্টা করছি।’
এ ব্যাপারে ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘উদ্যোক্তা নিজাম উদ্দিন আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকেই ডিজিটাল সেন্টারে কাজ করছেন। স্থানীয় লোকজন এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা নিজাম উদ্দিনের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন দীর্ঘদিন। সেই ক্ষোভ থেকেই হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা ঘটনাটি তদন্ত করেছি। লুটপাট করে টাকা নেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়নি। তবে বিষয়টি স্থানীয়ভাবেই সমাধানের চেষ্টা করছেন বিএনপির নেতারা।’