জামালপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের চরম অব্যবস্থাপনা ও ধারনক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি রোগী দেখে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। হাসপাতাল পরিদর্শনের পর নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, “আমার জীবনের সবচেয়ে খারাপ অভিজ্ঞতা যদি হয়ে থাকে, তবে তা এই জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল দেখে হলো।”
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকালে হাসপাতালটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার আমলে প্রতিষ্ঠিত এই ২৫০ শয্যার হাসপাতালে আজ ৮৬৭ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। ২০২১ সালেই এ হাসপাতালের ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা সত্ত্বেও এখানে ঝুঁকি নিয়ে রোগী রাখা হচ্ছে। বাংলাদেশের কোথাও এমন অমানবিক চিত্র আছে বলে আমার জানা নেই।”
হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণ আটকে থাকার পেছনে বিগত সরকারের তৎকালীন প্রতিমন্ত্রীর দুর্নীতিকে দায়ী করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, “এখানে ৫০০ বেডের একটি নতুন হাসপাতাল হওয়ার কথা ছিল এবং টেন্ডারও হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন ফ্যাসিবাদের এক প্রতিমন্ত্রী এবং ঠিকাদারের মধ্যে অবৈধ আর্থিক দেনদরবার ব্যাঘাত ঘটায় কাজটি বন্ধ রাখা হয়। কত নিকৃষ্ট ও অমানবিক মানুষ হলে জনস্বার্থের এমন কাজ আটকে রাখতে পারে, তা ভাবা যায় না।”
হাসপাতালের বর্তমান কর্মকর্তাদের গাফিলতির সমালোচনা করে মন্ত্রী জানান, ৫০০ বেডের অনুমোদিত প্রকল্পটি বর্তমানে সময় বাড়ানোর জন্য পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে। তিনি নিজে উদ্যোগী হয়ে পরিকল্পনা সচিব ও দায়িত্বে থাকা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সময়ের মধ্যে টেন্ডার ও ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করবেন।
এছাড়া রোগীদের খাদ্য সরবরাহ ও চিকিৎসার সরঞ্জাম কেনাকাটার অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় হচ্ছে কিনা— সে বিষয়ে তদন্তের ঘোষণা দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, দ্রুতই একটি সমন্বয় সভা ডেকে সংশ্লিষ্টদের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হবে এবং যারা এই অব্যবস্থাপনার জন্য দায়ী, তাদের কেন শাস্তির আওতায় আনা হবে না তা জানতে চাওয়া হবে।
পরিদর্শনকালে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুল হক, জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

দেশে যদি তেলই না থাকে তাহলে হাজার হাজার গাড়ির লংমার্চ হয় কীভাবে: শামা ওবায়েদ







