ইউক্রেনে দীর্ঘ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধে একটি নতুন মার্কিন শান্তি প্রস্তাব নিয়ে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই শীর্ষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। ক্রেমলিনের সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি প্রায় তিন ঘণ্টা স্থায়ী হয়। খবর বিবিসি।
মস্কোয় মার্কিন প্রতিনিধিদের সফরের অংশ হিসেবে রাজধানী মস্কো ও কিয়েভে একে অপরের বিমান হামলা বন্ধ রাখতে ৩ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেন।
ক্রেমলিনের বৈঠক ও পুতিনের বার্তা
রুশ টিভিতে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারকে অভ্যর্থনা জানান ভ্লাদিমির পুতিন। বৈঠকে পুতিন স্বীকার করেন যে ইউক্রেন পরিস্থিতি ‘একেবারেই সহজ নয়’, তবে ট্রাম্পের এই মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানান তিনি।
পুতিন বলেন, “পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, এ ধরনের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ সবসময়ই উপকারী।” একই সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টার জন্য তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান। মার্কিন প্রতিনিধি উইটকফও প্রতিনিধি দলের নিরাপত্তার স্বার্থে তিন দিনের বিমান হামলা স্থগিত রাখায় পুতিনকে ধন্যবাদ জানান।
কিয়েভ সফরের প্রস্তুতি ও জেলেনস্কির বার্তা
মস্কোর বৈঠক শেষ করে রবিবার মার্কিন প্রতিনিধি দলের ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে যাওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে তারা প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসবেন। দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর এটিই মার্কিন বিশেষ প্রতিনিধিদের প্রথম কিয়েভ সফর।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নিশ্চিত করেছেন যে, মার্কিন প্রতিনিধি দলের সফরের জন্য কিয়েভের কূটনৈতিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
জেলেনস্কি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল ইউক্রেনে থাকাকালীন আমরা মস্কোয় কোনও বিমান হামলা চালাবো না এবং আশা করি রাশিয়াও কিয়েভে সব ধরনের হামলা থেকে বিরত থাকবে।”
তবে এই মার্কিন সফরের ঠিক আগেই কিয়েভ ও বরিসপিল বিমানবন্দরে রাশিয়ার বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানান জেলেনস্কি। তার মতে, মার্কিন প্রতিনিধিরা যাতে বিমান যোগে কিয়েভে নামতে না পারেন, তার জন্য রাশিয়া মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করতেই এই হামলা চালিয়েছিল।
শান্তি প্রস্তাব ও জটিলতা
যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে উইটকফ ও কুশনার যুদ্ধ বন্ধের একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব নিয়ে গেছেন, তবে প্রস্তাবটির মূল শর্তাবলী প্রকাশ করা হয়নি। অপরদিকে ক্রেমলিন স্পষ্ট করেছে যে মস্কো তার পূর্বে ঘোষিত শর্তেই অনড়। যার মধ্যে রয়েছে ইউক্রেনের চারটি বিতর্কিত অঞ্চল রাশিয়ার হাতে ছেড়ে দেওয়া এবং ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগ না দেওয়া। কিয়েভ শুরু থেকেই এই দাবি প্রত্যাখান করে আসছে।
রাশিয়া ও ইউক্রেন দুটি দেশের সঙ্গেই আলাদাভাবে বৈঠক করে ট্রাম্পের প্রতিনিধিরা দীর্ঘদিনের সামরিক অচলাবস্থা কাটানোর কোনও পথ খুঁজে বের করতে পারেন কিনা, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।

কিয়েভে তিনদিনের জন্য হামলা বন্ধের নির্দেশ দিলেন পুতিন







