রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত শিবির নেতা হাফিজুর রহমানের চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহীর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর বিচারক মোকসেদা আজগর এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপত্র ও সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম বলেন, আমরা হাফিজুরের সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলাম। আদালত চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আর বাকি দুজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তাদের রিমান্ডের শুনানি সোমবার অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, ২৩ এপ্রিল রাতে নগরীর ছোট বনগ্রাম এলাকা থেকে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের শিবির সেক্রেটারি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ছাত্র হাফিজুর রহমানকে এবং পরের দিন নগরীর মতিহার থানার ললিতাহার এলাকা থেকে খাইরুল ইসলাম নামের আরেক শিবির কর্মীকে আটক করা হয়। এছাড়া মঙ্গলবার ভোররাতে অধ্যাপক রেজাউলের গ্রামের বাড়ি থেকে দরগামাড়িয়া ফোরকানিয়া ও হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম ও গোপালপুর ইসলামিয়া আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মুনসুর রহমানকে আটক করা হয়। তবে মঙ্গলবার রাতেই মুনসুরকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে, বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. শামসুদ্দিন বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্য মতে হত্যাকাণ্ডের সময় তিনজনের দৈহিক বর্ণনা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একজন মোটরসাইকেলে বসে ছিলেন। আর অপর দুইজন হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন। তারা ওই সময় ‘আল্লাহ আকবর’ বলে স্লোগান দিয়েছিলেন। প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডের পর তারা নগরীর আমচত্বরের দিকে রওনা দেন। তবে এই হত্যাকাণ্ড পরিকল্পনা করে এক গ্রুপ। আর বাস্তবায়ন করে আরেক গ্রুপ। শালবাগানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে অস্পষ্ট কয়েকজনের ছবি দেখা গেছে। ক্লাসে পাঠদানের বিষয়টিও দেখা হচ্ছে। এসব বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, তিনজনকে আটক করে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তাদেরকে রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়তে পারেন:
২৪ ঘণ্টায়ও নেভেনি সুন্দরবনের আগুন
তিনি বলেন, বাইরে থেকে বোঝা যাবে না এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে কী পরিমাণ কাজ হচ্ছে। ঢাকা থেকে একটি টিম এসেও কাজ করছে। সময় হলেই রেজাল্ট দেখতে পাবেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে মহানগর পুলিশ কমিশনার বরাবর একটি স্মারকলিপি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ। এ সময় নিহতের পরিবার, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে একাত্মতা প্রকাশ করেন পুলিশ কমিশনার মো. শামসুদ্দিন। এ সময় তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসে দুশ’ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৩ এপ্রিল সকাল পৌনে ৮টার দিকে মহানগরীর শালবাগান এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে মাত্র ১০০ গজ দূরে ড. এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে গলাকেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের আসামি করে নিহতের ছেলে রিয়াসাত ইমতিয়াজ সৌরভ বাদী হয়ে মামলা করেন।
/বিটি/টিএন/
আরও পড়তে পারেন:








