এগিয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু। বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত নিম্নচাপটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়েছে। উপকূল জুড়ে ৪ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। এদিকে, মংলা সমুদ্র বন্দরে অবস্থানরত সব জাহাজের পণ্য বোঝাই-খালাস ও পরিবহণ কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। মংলা বন্দরে অবস্থানরত দেশি-বিদেশি সব বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপদে সতর্ক অবস্থায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
খুলনা ও বাগেরহাট জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সম্ভাব্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে জেলা ও উপজেলার আশ্রয়কেন্দ্রসহ সব স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা। জেলা পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলার পাশাপাশি সব উপজেলায় খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। এছাড়া উপকূলীয় উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা শুক্রবার সকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির মিটিং করে সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় রোয়ারু উত্তর, উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর-উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, নিম্নচাপটি মংলা সমুদ্র বন্দর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার। যা দমকা ও ঝড়ো হাওয়া আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। নিম্নচাপের কারণে মংলা বন্দরকে ৪ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।
খুলনা আবহাওয়া অফিসের এসও এস এম নাজমুল হাসান বলেন, বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে শুক্রবার ভোর ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় খুলনায় ১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রোয়ানুর প্রভাবে খুলনা অঞ্চল জুড়ে মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে। কোথাও বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
রোয়ানু’র আতঙ্ক পটুয়াখালীতে, জেলেরা নিরাপদে ফিরছে
/বিটি/








