গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে প্রতারণা করে বিয়ের অভিযোগে সালিশ বসিয়ে দুই ভাইকে প্রকাশ্যে জুতাপেটা এবং চার লাখ টাকা জরিমানা করেছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও মাতব্বররা।
গত বুধবার (২৫ মে) উপজেলার সরাইকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বেথুড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন মিয়া, ফুকরা ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ইমদাদুল হক মোল্লা সালিশে উপস্থিত থেকে এ রায় দেন। এ ঘটনার পর থেকে এলাকার সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে জীবনযাপন করছেন।
স্থানীয়রা জানান, সরাইকান্দি গ্রামের সুকুমার মল্লিকের ছেলে পঙ্কজ কুমার মল্লিক নিজ ধর্ম গোপন রেখে ঢাকার সাভারে সাথী আক্তার স্বর্ণা নামে এক মেয়েকে বিয়ে করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে ভাড়া বাসায় সংসার করে আসছিলেন। হঠাৎ পঙ্কজ স্বর্ণাকে রেখে সরাইকান্দিতে আবার বিয়ে করেন। পরে স্বর্ণা পঙ্কজের গ্রামের বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অভিভাবকদের নিয়ে পঙ্কজের বাড়িতে যান।
খবর পেয়ে রামদিয়া পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হাদী আব্দুল্লাহ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় স্থানীয়রা সামাজিকভাবে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলার কথা বলে ওই পুলিশ কর্মকর্তাতে ফেরত পাঠান।
বুধবার ওই গ্রামের সোহরাফ শেখের বাড়িতে স্থানীয় কয়েকশ লোকের উপস্থিতিতে সালিশের আয়োজন করা হয়। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন – বেথুড়ী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন মিয়া, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ক্ষীরোদ রঞ্জন বিশ্বাস, ফুকরা ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ইমদাদুল হক মোল্লা এবং এলাকার মাতব্বর সোহরাফ শেখ, মোস্তফা মিনা, সুলতান মোল্লা, আকমল মোল্লা দ্বীন ইসলাম খাকী প্রমুখ।
সালিশ বৈঠকের রায়ে ধর্ম গোপন রেখে প্রতারণা করে বিয়ে করায় অভিযুক্ত পঙ্কজ মল্লিক (২৮) ও তার ছোট ভাই পীযুষ মল্লিককে (২৫) ৫০টি করে জুতাপেটা এবং ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অনেকে জুতাপেটার দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
এ বিষয়ে পীযুষ মল্লিক বলেন, এলাকার মাতব্বররা তাদের কোনও কথা শোনেননি। মেয়ে পক্ষ যা বলেছে, তা সত্য বলে বিবেচনা করে তাদের বিচার মেনে নিতে বাধ্য করেছেন।
বেথুড়ী ইউপি চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে বিচার করা হয়েছে, এ ধরনের টুকিটাকি বিচার মাঝে মধ্যে গ্রামাঞ্চলে হয়ে থাকে।’
অপর বিচারক ফুকরা ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ইমদাদুল হক মোল্লা বলেন, ‘শরিয়ত মোতাবেক বিচার করা হয়েছে।’
তবে কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ ধরনের কোনও তথ্য তার জানা নেই।’
আরও পড়ুন:
রাঙামাটিতে চাঁদের গাড়ি উল্টে নিহত ১, প্রতিবাদে বিজিবি ক্যাম্প ভাঙচুর
‘হত্যাকাণ্ডের দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে’
‘স্কুলের পাঠ্যবইয়ে সাম্প্রদায়িকতা উসকে দেওয়া হয়েছে’
/এসএনএইচ/এসএ/এপিএইচ/







