শিক্ষক নেই ২৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে!

মনির হোসেন, শরীয়তপুর
১৯ জুন ২০১৬, ০৮:৪৭আপডেট : ১৯ জুন ২০১৬, ১০:১০

শিক্ষক নেই এমন একটি স্কুল

সবগুলোই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কিন্তু, এগুলোতে নেই কোনও নিয়োগধারী শিক্ষক। এ চিত্র শরীয়তপুর জেলার। এখানে ২৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এখন একেবারেই শিক্ষকবিহীন। এসব বিদ্যালয়ে স্বেচ্ছাসেবার মাধ্যমে ঠেকার কাজ চালাচ্ছেন স্থানীয় কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা। এ কারণে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম।

শিক্ষক-কর্মচারী না থাকায় উপবৃত্তির দাবিদার হয়েও সব ধরনের সুবিধা বঞ্চিত এসব বিদ্যালয়ের সাড়ে ৫ হাজার শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়গুলোর বেশিরভাগই চরাঞ্চলসহ জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে শরীয়তপুর জেলার বিদ্যালয়বিহীন গ্রামগুলোয় ২৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। এসব বিদ্যালয়ে আসবাবপত্র সরবরাহ করা হলেও কোনও শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। শুরুর দিকে অন্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রেষণে শিক্ষক এনে এসব বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালু করা হয়। কিন্তু বিদ্যালয়গুলো প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় প্রেষণে আসা শিক্ষকরা কিছুদিন পরেই তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে ফিরে যান। এরপর থেকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষক দিয়ে এসব বিদ্যালয়ের কার্যক্রম কোনও রকম চালু রাখা হয়।

এছাড়া এসব স্কুলের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির ব্যবস্থাও চালু হয়নি। এসব শিক্ষার্থীর অধিকাংশই আবার চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সন্তান।

সদর উপজেলার তুলাসার ইউনিয়নের উপুরগাও হাচেন দেওয়ান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পার্শ্ববর্তী চিকন্দী ইউনিয়নের বগাদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আফরোজা কান্তা। তিনি বলেন, ‘বিদ্যালয়ে শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রায়ই দুই শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে বসিয়ে পাঠদান করতে হয়। এছাড়া দাফতরিক কাজও করতে হয়। দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ না দিলে এভাবে আর কতদিন সম্ভব?’

ভেদরগঞ্জ উপজেলার মোবারক দেওয়ান মেমোরিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষক সাগর আহমেদ বলেন, ‘আমি মুন্সীগঞ্জ হরগঙ্গা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশুনা করছি। চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কথা চিন্তা করে স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষক হিসেবে কাজ করছি। এখানকার শিক্ষকরা সবাই কলেজ শিক্ষার্থী।’

কাঁচিকাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হাসেম দেওয়ান বলেন, বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার জন্য শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অনেকবার অনুরোধ করেছি। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি। তাই স্কুলটি টিকিয়ে রাখতে ৫ জন স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষক রেখেছি। এদেরকে যাতায়তের জন্য শুধু দুই হাজার করে টাকা দেই।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিদ্যালয়গুলোতে মন্ত্রণালয় ৪ জন করে শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করলেও এখন পর্যন্ত কোনও শিক্ষক নিয়োগ দেয়নি। তবে স্থানীয় ব্যবস্থায় বিদ্যালয়গুলো চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে উপবৃত্তি দেওয়ার বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

আরও পড়ুন: উদ্বোধনের দেড় বছর পরেও ছাত্রী নেই রাবি’র ফজিলাতুন্নেছা হলে

/এসটি/টিএন/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম