বগুড়ার সারিয়াকান্দির প্রভাবশালী ভুমিদস্যুরা দক্ষিণ ধারাবর্ষা গুচ্ছগ্রামের ৩৮টি পরিবারের প্রায় ৩০ একর জমি দখল করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শনিবার তারা ৩ বিঘা জমির ফসল লুট করে ও তিনটি ছাগল নিয়ে যায়। এ ঘটনায় রবিবার সকালে মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিমসহ কয়েকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
সারিয়াকান্দি থানার ওসি ওয়াহেদুজ্জামান জানান, গুচ্ছগ্রামসংলগ্ন কিছু জমির মালিকানা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। প্রশাসন ভূমি জরিপকারী (সার্ভেয়ার) দিয়ে জমিগুলো মেপে সমস্যাটির সমাধান করে দেবে।
জানা গেছে, ওই গুচ্ছগ্রামে বর্তমানে ৪০টি পরিবার বসবাস করে। সারিয়াকান্দির উত্তর ধারাবর্ষা ও পাশের জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জের প্রভাবশালী ভূমিদস্যুরা এই গুচ্ছগ্রামের ৩৮টি পরিবারকে উচ্ছেদের চেষ্টা করছিল। গত ১৬ মে এ ব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়। এরপর নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম অভিযোগ করেন, গত শনিবার সকালে উত্তর ধারাবর্ষা চরের আবদুল মান্নান, জফের আলী ও আলম খাঁর নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত প্রায় ৩০০ লাঠিয়াল গুচ্ছগ্রামে প্রবেশ করে প্রায় ৩০ একর জমি দখলে নেয়। সেখানে দখলের উদ্দেশ্যে হালচাষ করা হয়। তারা চলে যাওয়ার সময় তার তিনটি ছাগল ধরে নিয়ে যায়।
গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা আম্বিয়া জানান, তার গরু ও ছাগল লুট করার চেষ্টা চালায় লাঠিয়ালরা। এসময় তিনি জীবন বাজি রেখে গরু-ছাগলগুলোর রশি কেটে দেওয়ায় সেগুলো পালিয়ে ঘরে ফিরে আসে।
আরেক ক্ষতিগ্রস্ত জিয়াউল হক জানান, তার তিন বিষা জমির পাকা কাউন কেটে নিয়ে গেছে সন্ত্রাসীরা। এরপর জমি চাষ দিয়ে সেটা দখলে নিয়েছে ওরা। সন্ত্রাসীদের ভয়ে তারা জমিতে নামতে পারছেন না।
স্থানীয়রা জানান, এ ঘটনার পর রবিবার সকালে মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম, জামাল প্রামাণিক, সাইফুল ইসলাম, নূরজাহান বেগম, গোলেজা, আম্বিয়াসহ ৩০ নারী-পুরুষ বিচার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ও থানায় অভিযোগ করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, গুচ্ছগ্রামের জমি দখলের বিষয়টি জেনেছেন। শিগগিরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: খুলনার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কে বাড়ানো হবে সিসি ক্যামেরা
/টিএন/আপ-এআর/








