নারায়ণগঞ্জে সাত খুন: তিন প্রত্যক্ষদর্শী র‌্যাব সদস্যের সাক্ষ্য

মেজর রানার নির্দেশে প্লাস্টিকের ব্যাগ ও ইট জড়ো করেন কয়েকজন র‌্যাব সদস্য

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
২০ জুন ২০১৬, ২০:০২আপডেট : ২০ জুন ২০১৬, ২১:২৪

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনায় সাতজনকে হত্যার পর লাশ নদীতে ডুবানোর কাজে ব্যবহৃত বস্তা বানানোসহ ঘটনা প্রত্যক্ষ করা তিন র‌্যাব সদস্যের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।  সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।  

নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত তিন র‌্যাব কর্মকর্তা

নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতের পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, সোমবার সাত খুনের ঘটনায় তিনজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। তারা হলেন র‌্যাব-১১ এর আদমজী ক্যাম্পের সাবেক ডিএডি (অ্যাডমিন) সেলিম খান, শহরের পুরাতন কোর্ট এলাকায় অবস্থিত র‌্যাব-১১ এর ডিএডি আতিয়ার হোসেন ও র‌্যাবের হাবিলদার আবদুস সাত্তার। শুনানি শেষে আগামী ২৭ জুন পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত।

এদিকে আদালত সূত্রে জানা গেছে, সাক্ষ্য দেওয়ার সময় আতিয়ার হোসেন বলেন, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল সকালে ক্যাম্প ইনচার্জ কমান্ডার এম এম রানা একটি টহল টিম প্রস্তুত রাখতে বলেন। নির্দেশ অনুযায়ী আবদুস সালাম শিকদারকে টহল টিমের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওই টিমকে পাঠানো হয় নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ায়। দুপুরে রানা আবারও ফোন করে ৬ সদস্যের একটি সিভিল টিম প্রস্তুত রাখতে বললে আমি ওই টিমও প্রস্তুত রেখেছিলাম। রাতে সি ম্যান আবদুস সামাদ জানায় তাকে একটি ট্রলার নিয়ে কাঁচপুর ঘাটে যেতে বলেছেন এম এম রানা।

সেলিম খান জানান, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৯টায় মেজর আরিফ হোসেন তাকে ৯ সদস্যের একটি পার্টি প্রস্তুত রাখতে নির্দেশ দেন। নির্দেশ পেয়ে তিনি ওই পার্টি প্রস্তুত করেন।

হাবিলদার আবদুস সাত্তার জানান, ঘটনার দিন বিকাল থেকে তিনি আদমজী ক্যাম্পের এক কোনায় কয়েকজন র‌্যাব সদস্যকে প্লাস্টিকের ব্যাগ তৈরি ও ইট প্রস্তুত করতে দেখেছেন।

জানা গেছে, সাত খুনের ঘটনায় দুটি মামলা হয়। একটি মামলার বাদী বিজয় কুমার পাল হলেন নিহত অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের মেয়ে জামাতা ও অপর বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটি হলেন নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী।

দুটি মামলাতেই অভিন্ন সাক্ষী ১২৭ জন। এ কারণে উভয় মামলার সাক্ষীদের একইসঙ্গে দুই মামলায় জেরা করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহীম অপহৃত হন। পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের ও ১ মে একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

তদন্ত শেষে প্রায় এক বছর পর গত ৮ এপ্রিল নূর হোসেন, র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সাত খুনের দুটি মামলায় নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এ মামলায় নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ মোট ২৩ জন কারাগারে রয়েছেন। আর চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে এখনও পলাতক ১২ জন।

 /বিটি/টিএন/

আরও পড়ুন: পরিবার থেকে দীর্ঘদিন ‘বিচ্ছিন্ন’ ছিল মুকুল রানা
                 তনুর বাবাকে গাড়িচাপায় হত্যার চেষ্টা! 

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম