অবিরাম বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে গাইবান্ধা জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, করতোয়া ও ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধি গতকাল শনিবারও অব্যাহত ছিল। ফলে জেলার চারটি উপজেলার নদী তীরবর্তী অন্তত ১৯টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় ৩০হাজার পানিবন্দী মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এদিকে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে নদী ভাঙ্গনের তীব্রতাও বেড়েছে।
ইউনিয়নগুলো হচ্ছে সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া, ঘুড়িদহ, সাঘাটা, জুমারবাড়ি, ভরতখালি, ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া, গজারিয়া, ফজলুপুর, এরেন্ডাবাড়ি, উড়িয়া, ফুলছড়ি, গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি, মোল্লারচর, গিদারি, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া, হরিপুর, চন্ডিপুর, তারাপুর ও বেলকা। এদিকে ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে সাদুল্লাপুর-লক্ষীপুর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পুরাণ লক্ষীপুর গ্রামের প্রায় ১০০ ফুট অংশ হুমকির মুখে পড়েছে। বাঁধটি নদীগর্ভে বিলীন হলে পাশ্ববর্তী শতাধিক ঘরবাড়ি ও আবাদি জমি তলিয়ে যাবে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কুমার সরকার জানান, গত ১২ ঘণ্টায় ঘাঘাটের পানি ১৫ সে. মি. ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি ১০ সে. মি. করতোয়ার পানি ১০ সে. মি. বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে তিস্তার পানি বৃদ্ধি অপরিবর্তিত আছে। নদ-নদীগুলোর পানি বিপদসীমা অতিক্রম না করলেও তার কাছাকাছি চলে এসেছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, বন্যায় জেলায় এক হাজার ৮২৯ হেক্টর জমির পাট, সবজি ও রোপা আমনের বীজতলার ক্ষতি হয়েছে। চারটি উপজেলার ৪৫টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পানি উঠায় লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে। বন্যা কবলিত মানুষের জন্য দশটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদ শনিবার সন্ধ্যা ছয়টায় মুঠোফোনে বলেন, এ পর্যন্ত বন্যা কবলিত এলাকায় শুকনো খাবার কেনার জন্য পাঁচ লাখ টাকা, ১২৫ মেট্রিক টন চাল ও নগদ আরও একলাখ ২৫ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গতকাল বিকেলে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ১৫০টি বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের প্রত্যেককে দশ কেজি চাল, পাঁচ কেজি ডাল, এক কেজি চিড়া ও দিয়াশলাই দেওয়া হয়েছে। আমি নিজে উপস্থিত থেকে এসব ত্রাণ বিতরণ করেছি।
/জেবি/
আপ: এইচকে
আরও পড়ুন: জঙ্গি দমনে সহায়তা নিলেও নিজেদের স্বকীয়তা বিসর্জন দিয়ে নয়: নাসিম








