খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার দুটি গ্রাম থেকে নিখোঁজ দুই যুবকের ফেরার অপেক্ষায় আছেন পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের সদস্যরা বলছেন বিষয়টি নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হলেও পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। তবে পুলিশ বলছে তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।
মানিকছড়ি থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কুমারি গ্রামের মো. জয়নাল আবেদিনের ছেলে মোরশেদ আলম নিখোঁজ হন চলতি বছরের ০৮ ফেব্রুয়ারি এবং পাশ্ববর্তী মুসলিমপাড়া এলাকার রাজিব দে নিখোঁজ হন চলতি বছরের ২১ জুন। উভয় পরিবারের পক্ষ থেকে মানিকছড়ি থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগটি উড়িয়ে দিয়ে স্থানীয় পাহাড়ি সংগঠনের সদস্যরা তাদের অপহরণ করেছে বলে দাবি করেন। এলাকাবাসীর মতে নিখোঁজ দুই যুবকের স্বভাব-চরিত্র ভালো ছিল।
কুমারী এলাকার বয়োবৃদ্ধ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মোরশেদ ছেলে হিসেবে ভালো ছিল। সে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে পরিবারের ভরণ-পোষণ করতো।
মর্জিনা বেগম নামে আরেক প্রতিবেশী বলেন, সে এলাকার সবার বিপদে-আপদে কাজ করতো।
মানিকছড়ি এলাকার রমা রানী দে বলেন, রাজিব ভালো ছেলে ছিল, তাকে কখনও খারাপ কিছু করতে দেখিনি।
স্থানীয় শিক্ষক রতন কুমার দে বলেন, রাজিব তার বাসায় সপরিবারে ভাড়া থাকতো। রাজিব কাঠের ব্যবসা করতো। তাকে কখনও কোনও খারাপ কাজে দেখা যায়নি। নিখোঁজের পর বিষয়টি নিয়ে থানা পুলিশের সঙ্গে দেন-দরবার করা হলেও এখনও রাজিবের কোনও খবর পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ যুবক মোরশেদের বাবা মো. জয়নাল আবেদিন জানান, তার ছেলে ৭ মাস ধরে নিখোঁজ। তার বিশ্বাস স্থানীয় পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা তাকে অপহরণ করেছে। তার ছেলে হয়তো তাদের কাছে আছে। তিনি তার সন্তানের ফেরার অপেক্ষায় আছেন।
নিখোঁজ যুবক রাজিব দে’র স্ত্রী স্মৃতি দে জানান, নিখোঁজের পর স্বামীর সন্ধানে থানায় জিডি করেছেন কিন্তু এখন পর্যন্ত তার কোনও খোঁজ পাননি। তার তিন বছরের ছেলে অর্ণবকে নিয়ে তিনি মামার বাড়িতে আছেন। স্বামীর ফেরার অপেক্ষায় করছেন।
মানিকছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, দুই যুবক নিখোঁজের বিষয়টি পুলিশ গুরত্বেও সঙ্গে তদন্ত করছে। নিখোঁজ দুই যুবকের সঙ্গে জঙ্গি সংগঠনের কোনও সম্পৃক্ততা নেই বলে প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন: ডিজিটালাইজেশনে ভূমি অফিসকে দুর্নীতিমুক্ত করার প্রত্যয় ওলিউজ্জামানের
/জেবি/টিএন/আপ-এআর/







