কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যার চার মাস ১১ দিন গেছে শনিবার (৩০ জুলাই)। চার মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আশার আলো নেই তনু হত্যা মামলায়। মামলা এখনও আটকে আছে ১৬ মে প্রকাশিত ডিএনএ রিপোর্টে। তনুর কাপড়ে পাওয়া তিন পুরুষের শুক্রানুর সঙ্গে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ মেলানোর কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে না। সিআইডি এক সময় সন্দেহভাজনদের ডিএনএ পরীক্ষার কথা বললেও এখন তারা মুখ খুলছেন না।
রবিবার বাংলা ট্রিবিউনের এ প্রতিবেদককে এসব কথা বলেন তনুর মা আনোয়ারা বেগম।
তনুর মা অভিযোগ করেন, সিআইডি বলেছিলো ঈদের পরে তনুর মামলার অগ্রগতি হবে। ঈদের পর গত প্রায় এক মাসেও তেমন খোঁজ-খবর পাইনি। তনুকে সেনানিবাসের ভেতরে হত্যা করা হয়েছে। সিআইডি সন্দেহভাজনদের তালিকাও করেছে। তাদের আটক করে ডিএনএ টেস্ট করলেই হত্যাকারী শনাক্ত হয়ে যায়। অথচ তা করা হচ্ছে না।
তিনি বলেন, আমার মাঝে মাঝে মনে হয় হত্যাকারীরা সরকারের থেকেও বেশি শক্তিশালী। তবে দেশের মানুষের সমর্থন ও মিডিয়ার সহযোগিতা না থাকলে এতোদিনে হয়তো তনুর মতো মামলাটিরও কবর দেওয়া হয়ে যেতো।
তনুর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি কুমিল্লার পরিদর্শক গাজী মো.ইব্রাহিম বলেন, মামলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে মামলার অগ্রগতি নিয়ে তিনি বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসে বাসার পাশের একটি জঙ্গল থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ২১ মার্চ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজে তার প্রথম ময়নাতদন্ত করেন ডা. শারমিন সুলতানা। ওই দিন অজ্ঞাতদের আসামি করে কুমিল্লা কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা করেন তনুর বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন। গত ৩০ মার্চ দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্তের জন্য তনুর লাশ জেলার মুরাদনগরের মির্জাপুর গ্রামের কবর থেকে উত্তোলন ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। গত ৪ এপ্রিল দেওয়া হয় প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন। ওই প্রতিবেদনে তনুকে হত্যা ও ধর্ষণের আলামত না থাকায় সমালোচনার মুখে পড়ে ফরেনসিক বিভাগ। গত ১৬ মে তনুর কাপড়ে তিন পুরুষের শুক্রানু পাওয়া যাওয়ার খবর সিআইডির কুমিল্লা অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর আবারও আলোচনায় উঠে আসে প্রথম ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন। ১২ জুন দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ওই প্রতিবেদনেও তনুকে হত্যা ও ধর্ষণের আলামত না থাকার কথা বলা হয়।
আরও পড়ুন:
১৭৮ হত্যা ও হামলার দায় স্বীকার করে জেএমবির চিঠি
/বিটি/টিএন/








