পণ্যজটে স্থবির বেনাপোল বন্দর, ক্রেন ও ফর্কলিফট অচল

মো. সেলিম রেজা, বেনাপোল
০৯ আগস্ট ২০১৬, ১৭:৫৮আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০১৬, ১৭:৫৮

বেনাপোল স্থলবন্দর বেনাপোল বন্দরের বোশিরভাগ ক্রেন ও ফর্কলিফট অকেজো হয়ে যাওয়ায় হঠাৎ স্থবির হয়ে পড়েছে বন্দরের পণ্য ওঠানামার কাজ। এতে বন্দরে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ পণ্যজট।

বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্তমানে বেনাপোল বন্দরে ২৫ টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ফর্কলিফট রয়েছে একটি ও পাঁচ টনের ফর্কলিফট রয়েছে পাঁচটি। এর মধ্যে তিনটি দীর্ঘদিন ধরে অচল। ৪০ টন, ৩৫ টন ও ১৯ টনের ক্রেন আছে একটি করে, আর ১০ টনের ক্রেন আছে দুইটি। এসব ক্রেন অধিকাংশ সময় অকেজো হয়ে পড়ে থাকে। বর্তমানে সবচেয়ে বড় ২৫ টনের ফর্কলিফটি অকেজো থাকায় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটছে মালামাল লোড-আনলোডে।

বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, বন্দরের গুদামে জায়গার অভাবে ওখান থেকে পণ্য বের করার পর নতুন পণ্য ঢোকানো হচ্ছে। খালাসের অভাবে পণ্যবোঝাই ট্রাক বন্দরের ভেতর দাঁড়িয়ে থাকছে দিনের পর দিন। ট্রাক থেকে পণ্য নামানোর অনুমতি মিললেও ক্রেন বা ফর্কলিফট মিলছে না। ফলে জায়গা ও ক্রেন সংকটে বিপাকে পড়েছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক নিতাই চন্দ্র সেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান  সাড়া দিচ্ছে না। বিষয়টি জানিয়ে গত ২৫ মে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের (ব্যবস্থাপক) কাছে একটি চিঠি দিয়েছি। আশা করছি, খুব তাড়াতাড়ি সমস্যার সমাধান হবে। বেনাপোল স্থলবন্দর

বন্দর ব্যবহারকারীরা অভিযোগ করে বলেন, বন্দরের ড্রাইভার ও ইঞ্জিনিয়ারদের যোগসাজশে কিছু  অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এসব ফর্কলিফট ও ক্রেন ইচ্ছাকৃতভাবে অচল করে রাখেন। মাঝে মধ্যে মেরামতের জন্য যেসব যন্ত্রাংশ কেনা হয় তা অধিকাংশই পুরনো। ফলে মাস না ঘুরতেই ফের তা অচল হয়ে পড়ে।

বেনাপোল কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক জামাল হোসেন জানান, এই বন্দর দিয়ে দেশের সিংহভাগ শিল্প-কলকারখানা, গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ ও বিভিন্ন প্রকল্পের মেশিনারিজ আমদানি করা হয়। ক্রেন ও ফর্কলিফট ছাড়া এ জাতীয় পণ্য বন্দরে লোড-আনলোড করা সম্ভব না। ২০০২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ বেনাপোল বন্দরকে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। এসময় বেশি পুরনো ক্রেন ও ফর্কলিফট মংলা বন্দর থেকে ভাড়া করে এনে এখানে কাজ চালানো হতো।  বেনাপোল স্থলবন্দর

তিনি আরও বলেন, ২০১০ সালের ২১ মার্চ বেনাপোল স্থলবন্দরের পণ্য ওঠা-নামানোর জন্য বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঢাকার মহাখালীর মেসার্স এসআইএস (সিস) লজিস্টিক সিস্টেমের (জেভি) পাঁচ বছর মেয়াদি চুক্তি হয়। ১ আগস্ট থেকে তারা বেনাপোল স্থলবন্দরে বেসরকারি কার্গো হ্যান্ডলিং এর দায়িত্ব পান। প্রতিষ্ঠানটি বন্দরে ১৬টি ফর্কলিফট ও ৫টি ক্রেন দিয়ে মালামাল ওঠানামার কাজ করার পর, ওই বছরের ১০ নভেম্বর আরও ৬টি নতুন ফর্কলিফট নিয়ে আসে। কিছুদিন না যেতেই এসব ফর্কলিফট ও ক্রেন অকেজো হওয়া শুরু করে। কিন্তু মেরামতের কোনও লক্ষণ দেখা যায় না।

চুক্তি অনুযায়ী পাঁচটি ক্রেন দিয়ে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ করার কথা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তিনটি ক্রেন অকেজো হয়ে পড়ে আছে। বিষয়টি বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও ব্যবসায়ীরা তার সুফল পাননি।

এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বেনাপোল প্রতিনিধি হাফিজুর রহমান বলেন, ইঞ্জিনের বিষয় তো, মাঝে মধ্যে সমস্যা হতে পারে। আমরা সব ক্রেন ঠিক করে দিচ্ছি।

বন্দরের ১১ নম্বর গুদামের ইনচার্জ ফারুক হাসান জানান, পণ্য ওঠানামার কাজে ব্যবহৃত পাঁচটি ক্রেনের মধ্যে দুটি সচল রয়েছে। ওই দুটি দিয়েই কোনোভাবে কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ক্রেন সংকটের কারণে গভীর রাত পর্যন্তও কাজ করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধিরা ক্রেন পেলেও গুদামে আর জায়গা থাকে না। তখন ভেতরের পণ্য বের না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। বেনাপোল স্থলবন্দর

অভিযোগ উঠেছে, ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ মালামাল বন্দরে ঝুঁকি নিয়ে রাখা হচ্ছে। মালামাল রাখার জায়গা না থাকায় প্রতিদিন কয়েকশ ট্রাক মালামাল নিয়ে বন্দরের পাশের সড়কে বিভিন্ন স্থানে দাঁড়িয়ে থাকছে।

ব্যবসায়ীদের এসব অভিযোগের  কথা স্বীকার করে বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) আবদুল জলিল বলেন, আধুনিক দুইটি শেড নির্মাণ করার জন্য ১২০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই দরপত্র আহ্বান করা হবে। শেডগুলো তৈরি হলে জায়গার সংকট থাকবে না।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা জানান, ৩৬ হাজার টন ধারণক্ষমতার বন্দরে প্রতিদিন ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টন পণ্য ওঠা-নামা করা হয়। এসব পণ্য ওঠা-নামার কাজে ন্যূনতম সাতটি ক্রেন প্রয়োজন। সেখানে দুটি ক্রেন সচল রয়েছে। প্রতিদিন অন্তত ২শ’ ট্রাক পণ্য ওঠা-নামানোর জন্য দাঁড়িয়ে থাকে। বন্দরের জায়গা ও ক্রেন সমস্যার সমাধান না করলে বেনাপোল বন্দর থেকে ব্যবসায়ীরা অন্য বন্দরে চলে যাবেন।

আরও পড়ুন- 

জঙ্গি হামলার শিকার হলে যা করণীয়
আজও ত্রাণের জন্য ছোটেন সেই বাসন্তি

ডার্কনেটে চলছে ‘রাহমানী-আওলাকি’র দাওয়াত!

/এফএস/এপিএইচ/

 

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
সীমান্তে কঠোর বিজিবি, ১০ পুশ-ইন চেষ্টা প্রতিহত
সীমান্তে কঠোর বিজিবি, ১০ পুশ-ইন চেষ্টা প্রতিহত
যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন
যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: সবচেয়ে বেশি চাপে মধ্যবিত্ত
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: সবচেয়ে বেশি চাপে মধ্যবিত্ত
দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম