পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ইতোমধ্যেই নীলফামারী জেলা জুড়ে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। এসব হাটগুলোতে ক্রেতা- বিক্রেতার উপচে পড়া ভিড়। তবে এ বছর সীমান্তের শতর্কতার কারণে ভারতীয় গরুর আমদানি কম থাকলেও দেশি গরুর পরিমাণ অনেকটাই বেশি। এ ছাড়া হাটগুলোতে পশুর দাম অনেকটা ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে।
বুধবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে নীলফামারীর শহরের কালিতলা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন কোরবানির পশুর হাটে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভির। এ সপ্তাহের প্রথমদিকে বাজার মূল্য বেশি থাকলেও আজ তার ব্যতিক্রম ঘটেছে।
হাটে কথা হয় নীলফামারী সদরের রামনগর ইউনিয়নের বাহালী পাড়া গ্রামের ক্রেতা এনতাজ আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন,প্রথমদিকে পশুর দাম একটু বেশি হলেও আজ তা কমেছে।
কারণ জানতে চাইলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,দেশীয় গরু প্রচুর আমদানি হয়েছে। ভারতীয় গরুর প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয় না।
একই এলাকার গরু বিক্রেতা আশরাফ আলী বাংলা ট্রিবিউনকে জানায়, তিনি ৩টি গরু হাটে এনেছে। প্রতিটি গরু ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্রেতারা দাম বলছে। তিনি আশা করেন এবারে গরু পালন করে তিনি লাভের মুখ দেখবেন।
তিনি আরও জানান, বাজারে দেশি গরুর সমাগম দেখে আনন্দিত ক্রেতারা। তাছাড়া দেশি গরুতে রোগ বালাই কম। ভারতীয় গরুতে নানা ধরনের রোগবালাই এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেশি থাকে।
নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এসএম শফিকুল আলম ডাবলু বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, গতবারের তুলনায় এবার ভারতীয় গরু চারভাগের একভাগও নেই। ভারতীয় গরু না আসলে সবার জন্যই ভালো।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ দেশি গরু আমাদের এলাকায় দেখিছি তাতে আর ভারতীয় গরুর দরকার নেই। এ ছাড়া ভালো দাম পেলে খামারী ও গৃহস্থরা দেশি গরু পালন করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে এবং গরু পালনে আগ্রহী হবে।
জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো. শাহজালাল খন্দকার জানায়, জেলায় এবার ২২ হাজার ৪৬৭ কোরবানির গরুর চাহিদা রয়েছে। চাহিদার তুলনায় ৩৭ হাজার ১৭৭টি গরু গৃহস্থ বাড়ি ও স্থানীয় খামার গুলোতে প্রস্তুত রয়েছে। এ ছাড়া খাসি, ছাগল ও ভেড়া চাহিদা রয়েছে ৯ হাজার ৮০৬টি। ঈদে কোরবানির জন্য প্রস্তত রয়েছে ১২ হাজার ৭২৫টি।
সদর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা.মো.রেজাউল হাছান জানান, এবার কোরবানির ঈদে যে পরিমাণ পশু মজুত রয়েছে তাতে কোরবানির পশু সংকটের কোনও সম্ভবনা নেই।
তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে জেলার প্রতিটি হাটবাজারে জেলা প্রাণী সম্পদের পক্ষে পশু সুস্থ্য আছে কিনা, তা পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে।
জেলার বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতা-বিক্রেতার পদচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে হাটগুলোয়। সাধারণ ক্রেতার পাশাপাশি হাটগুলোয় রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার গরুর পাইকারদের প্রচণ্ড ভিড় দেখা গেছে। পছন্দের তালিকায় এবার প্রাধান্য পাচ্ছে দেশি আড়িয়া গরু।
এবারে হাটে ভারতীয় গরুর আমদানি না হওয়ায় স্বাভাবিক মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বেচাকেনা হচ্ছে বলে বিভিন্ন হাটের ইজারাদাররা জানিয়েছেন।
নীলফামারী কালিতলা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন কোরবানির পশুর হাটের ইজারাদার মাহবুবুল আলম জানান, এ হাটে ন্যূন্যতম ৩৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন দামের গরু বিক্রি হচ্ছে।
জেলার ঢেলাপীর,বসুনিয়া, মীরগঞ্জ,বোড়াগাড়ী, জলঢাকা, বসুনিয়ার হাট, কলোনিরহাটসহ বিভিন্ন পশুর হাটে প্রতিদিন গরু-ছাগল কেনা বেচা চলছে। গরুর পাশাপাশি এসব হাটে ছাগলের আমদানিও প্রচুর বেড়েছে।
সূত্র জানায়, নীলফামারীর একমাত্র ভারতীয় গরুর হাট ছিল ডিমলার কলোনিতে। কিন্তু এবার সীমান্তে বেশি নজরদারি থাকায় করিডোরের মাধ্যমে সে হারে গরু আসছে না। ফলে কলোনি হাটে এবার ভারতীয় গরু নয়, দেশি গরুর পরিমাণই বেশি। এ হাটে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলাসহ ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনা বিভাগ থেকে ক্রেতা ও বিক্রেতার আগমণ ঘটে।
এদিকে ক্রেতারা বলছেন, গরু প্রতি সরকার থেকে নির্ধারিত ফি ২০০ টাকা থাকলেও গরু ক্রয়ের ছাড়পত্রে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা নিচ্ছেন ইজারাদাররা।
তবে ইজারাদাররা বাংলা ট্রিবিউনকে জানায়, নির্ধারিত হারেই ছাড়পত্রের টোল নেওয়া হচ্ছে। যারা এই ছাড়পত্র দিচ্ছে তারা হয়তো ঈদের বকশিস হিসেবে ক্রেতাদের কাছ থেকে কিছু টাকা চেয়ে নিচ্ছে।
আরও পড়ুন: যশোরের সেই বাড়িতে দুই মাস ধরে তালা
/এআর/








