জয়পুরহাটে এবছর চামড়ার বাজারে ধস নেমেছে। বাজারে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে গরুর চামড়া। ছাগলের চামড়া বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। এতে বেশি মূল্যে চামড়া কিনে হাজার হাজার টাকা লোকসানে পড়েছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা।
মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে শহরের আমতলী মোড়, জামালগঞ্জ মোড় ও কেন্দ্রীয় মসজিদ চত্বরসহ জেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ীরা গরুর চামড়া ছোট বড় দেখে দাম করছেন ৪০০ থেকে সর্বোচ্চ হাজার টাকা। আর ছাগলের চামড়া কিনছেন ৩৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭০ টাকায়।
জয়পুরহাট শহরের কেন্দ্রীয় মসজিদ চত্বরে চামড়া বিক্রি করতে আসা সদর উপজেলার মঙ্গলবাড়ির মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী জাকারিয়া হোসেন জানান, গ্রামে এক হাজার ৪০০ টাকা দিয়ে তিনি আটটি গরুর চামড়া কিনেছিলেন। কিন্তু বাজারে সেগুলো দাম উঠেছে সাড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। বাধ্য হয়ে লোকসান দিয়ে সেগুলো বিক্রি করতে হয়েছে।
সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী এমরান হোসেন জানান, এক হাজার ৩০০ টাকা করে ৩৮টি গরুর চামড়া তিনি বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে কিনেছিলেন। কিন্তু বাজারে সেগুলো বিক্রি করে তার লোকসান হয়েছে ১৭ হাজার টাকা।
ক্ষেতলাল উপজেলার শাখারুঞ্জ গ্রামের আব্দুস সবুর জানান, দশ হাজার টাকার একটি ছাগল কোরবানি দিয়ে সেই চামড়া ইটাখোলাহাটে মাত্র ৪০ টাকায় বিক্রি করেছেন।
সদর উপজেলার ভিটি গ্রামের বাবলু মিয়া বলেন, স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে চামড়া কেনায় বাজারে দাম কমে গেছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন,কোরবানির চামড়া বিক্রির সব টাকায় গরীব ও দুস্থরা পায়। অথচ সেই কোরবানির চামড়ার আর দাম নেই।
জয়পুরহাট শহরের স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ী ছাইদুল ইসলাম জানান,আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে যাওয়ার পাশাপাশি লবণের দাম বেশি। আর ট্যানারি মালিকরা তাদের বকেয়া পরিশোধ না করায় বেশির ভাগ ব্যবসায়ী চামড়া কেনা থেকে বিরত থাকায় বাজারে চামড়ার দাম কমে গেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন,ট্যানারি মালিকদের কাছে বাকি থাকায় অনেক চামড়া ব্যবসায়ী ব্যবসা গুটিয়ে আছেন। বর্তমানে যারা কিনছেন তারা চামড়া ভারতে পাচার উদ্দেশে কিনছেন। তারা না কিনলে চামড়ার দাম আরও কমে যেত।
জয়পুরহাট পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন,এবার জেলার প্রতিটি চামড়া ব্যবসায়ী তাদের নজরদারিতে রয়েছে। কে কোথায় কি পরিমাণ চামড়া কিনবে তা জানার জন্য এবং পাচার রোধে সীমান্তের প্রতিটি এলাকায় তাদের সোর্স রয়েছে। তারা প্রতি মুহুর্ত বিষয়টি দেখভাল করছেন। কাজেই এবার কোরবানির চামড়া পাচার হওয়ার কোনও আশঙ্কা নেই।
আরও পড়ুন খুলনায় সড়কে পশু জবাই কমেছে
/এমডিপি/







