ব্লাস্ট রোগের কারণে গম চাষে নিষেধাজ্ঞা থাকায় কুষ্টিয়ায় বেড়েছে সরিষা চাষ। চলতি বছর জেলায় ৭ হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। এর মধ্যে, সদর উপজেলায় ২ হাজার ২৫০ হেক্টর, মিরপুর উপজেলায় ৮৫০ হেক্টর, ভেড়ামারা উপজেলায় ২২৫ হেক্টর, দৌলতপুর উপজেলায় ২ হাজার ৪৫০ হেক্টর, কুমারখালী উপজেলায় ৭৫০ হেক্টর ও খোকসা উপজেলায় ৪২৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে প্রায় ৯৫ শতাংশ জমিতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সিটিউট (বারি) এবং বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সিটিউট (বিনা) উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল বারি সরিষা-৯, ১৩, ১৪ ও বিনা সরিষা-৪ ও ৯ জাতসহ উচ্চ ফলনশীল টোরি-৭ জাতের সরিষার চাষ হয়েছে। বাকি ৫ শতাংশ জমিতে স্থানীয় জাতের সরিষা চাষ হয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, স্থানীয় জাতের সরিষায় হেক্টর প্রতি ফলন হয় দশমিক ৫ থেকে দশমিক ৬ টন, সে তুলনায় বিনা ও বারিসহ উচ্চফলনশীল জাতের সরিষায় ফলন হয় হেক্টর প্রতি দেড় থেকে ২ টন। উচ্চ ফলনশীন জাতের সরিষা চাষে কৃষকদের ব্যাপকভাবে উদ্বুদ্ধ করার তারা এ বছর এর চাষ বেশি করেছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকেও সরিষা চাষে সব ধরনের সহযোগিতা করা করা হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে চলতি মৌসুমে কৃষকরা সরিষার ফলন ভালো হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।
সদর উপজেলার আব্দালপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল করিম মণ্ডল জানান, চলতি মৌসুমে তিনি দেড় একর জমিতে বারি সরিষা-১৪ জাতের উচ্চ ফলনশীল সরিষা চাষ করেছেন। যা থেকে তিনি প্রায় ২২ মণ সরিষা পাবেন বলে আশা করছেন। মিরপুর উপজেলার মশান গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নানও জানান, দেড় বিঘা জমিতে বারি সরিষা-৯ জাতের উচ্চ ফলনশীল সরিষা চাষ করে প্রায় সাত মণ সরিষা পাবেন বলে আশা করছেন।
মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ জানান, মিরপুর উপজেলায় ৮৮৫ হেক্টর সরিষার চাষ হয়েছে। এই উপজেলায় সব থেকে বেশি তামাক চাষ হয়ে থাকে। কয়েক বছর ধরে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে তামাক চাষ বন্ধ করে সরিষার চাষ বাড়াতে পেরেছি। এবার বারি সরিষা-১৩, ১৪ ও বিনা সরিষা-৪ ও ৯ জাতের চাষ করা হয়েছে বেশি।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সেলিম হোসেন জানান, কৃষকদের সরিষা চাষে বিভিন্নভাবে সহায়তা করা হয়েছে। এছাড়াও কৃষি ব্যাংকসহ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও ঋণ সহায়তা সরবরাহ করছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের (ভারপ্রাপ্ত) উপ-পরিচালক ডা. হায়াৎ মাহমুদ জানান, কুষ্টিয়া অঞ্চলে চলতি মৌসুমে ব্লাস্ট রোগের কারণে গম চাষে নিষেধাজ্ঞা থাকায় এবং মসুর এবং সরিষার আবাদ বেড়েছে। সরিষার ক্ষেত্রে কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়ায় জেলায় গতবারের থেকে এবার সরিষার আবাদ বেড়েছে। চলতি রবি মৌসুমে জেলায় স্থানীয় জাতের তুলনায় উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষা বেশি চাষ করছেন কৃষকরা। সরিষা চাষে কৃষি বিভাগ সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে।
/এমও/








