হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকার পরও মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘শান্তি কমিটি’র তিন সদস্যসহ চারজন স্বাধীনতা বিরোধীর নামে মাগুরার চারটি সড়কের নাম রয়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারাসহ সুশীল সমাজ।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে স্বাধীনতা বিরোধীদের নামে ৩২টি সড়ক রয়েছে।
গত বছরের ৬ ডিসেম্বর হাইকোর্ট এ ধরনের নামফলক ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন। এজন্য ৬০ দিন সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। তবে আদালতের এ নির্দেশ বাস্তবায়নের কোনও তোড়জোড় এখনও লক্ষ্য করা যায়নি।
মাগুরায় জেলায় স্বাধীনতা বিরোধীদের নামে থাকা সড়কগুলো হলো, মাগুরা শহরের চৌরঙ্গী মোড় থেকে ভায়না মোড় পর্যন্ত শান্তি কমিটির সদস্য মোখলেসুর রহমানের নামে এম আর সড়ক, শহরের চৌরঙ্গী মোড় থেকে নতুন বাজার এলাকা পর্যন্ত হাবিবুর রহমান সড়ক, শান্তি কমিটির সহসভাপতি ওয়াজেদ আলি খানের নামের সড়ক এবং জেলার মোহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নে রাজাকার চাঁদ আলি শিকদারের নামের সড়ক।
এ প্রসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মাগুরা জেলা ইউনিটের কমান্ডার মোল্লা নবুয়ত আলি বাংলা ট্রিবিউনকে বললেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরবর্তী বিভিন্ন শাসনামলে হাবিবুর রহমান ও মোখলেসুর রহমানের দুটি সড়কের নাম করা হয়। যত দ্রুত সম্ভব এ নামফলক ভেঙে ফেলা হোক।’
জেলা জাসদ (ইনু) এর আহ্বায়ক সমীর চক্রবর্তী বলেন, ‘স্বাধীন দেশের মাটিতে এত বীর মুক্তিযোদ্ধা থাকতে স্বাধীনতা বিরোধীদের নামে কোনও স্থাপনার নামফলক থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা মনে করি হাইকোর্টের নির্দেশনাকে যথাযথভাবে কার্যকর করতে মাগুরার স্বাধীনতা বিরোধীদের নামের সড়কগুলোর নামফলক ভেঙে ফেলাই যথেষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোতে অবস্থিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন অফিস আদালতের সাইনবোর্ড থেকেও তাদের নাম মুছে ফেলার পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’
সংস্কৃতিকর্মী বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী বলেন, ‘প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অবহেলা করে রাজাকারদের নামে সড়কের নাম দেখে আমরা সত্যিই খুব কষ্ট পাই। আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কেন তা ভাঙার কোনও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না তা রহস্যজনক।’
এ বিষয়ে মাগুরা জেলার অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজমুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি এখনও অবগত নন। এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
/জেএইচ/এসটি/








