চৈত্রের শেষ দিনে বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) পাহাড়িদের মূল বিজু। এদিন সারাদিন হৈ-হুল্লোড় করে কাটাচ্ছেন পাহাড়ি তরুণ তরুণীরা। ঘরে ঘরে নিমন্ত্রণ আর অতিথি আপ্যায়নের মধ্যে দিয়ে দিনটি কাটাচ্ছে পাহাড়ি পরিবারগুলো। চৈত্র সংক্রান্তিতে পাহাড়িদের ঘরে ঘরে তৈরি করা হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘পাঁচন’। চৈত্র সংক্রান্তির দিনে পাহাড়িদের প্রধান খাবারই হচ্ছে পাঁচন। অতিথি আপ্যায়নেও প্রধান খাবার হিসেবে থাকে ‘পাঁচন’। অনেক ধরণের সবজি দিয়ে তৈরি করা হয় পাঁচন।
এ ব্যাপারে রাহুল চাকমা বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, চৈত্র সংক্রান্তিতে পাঁচন খেলে বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এছাড়া একদিনে সাত পরিবারে গিয়ে পাঁচন খেলে সর্বরোগ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যায়। বিজুর দিনে পাহাড়িদের বাসায় পাহাড়ি-বাঙালি সবাই বেড়াতে যায়।
৩ দিনের এই বিজুর উৎসবে মেতে থাকেন চাকমারা। বুধবার (১২ এপ্রিল) পানিতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে তিন পার্বত্য জেলায় শুরু হয়েছে বৈসাবি’র মূল আনুষ্ঠানিকতা। প্রথম দিন ছিল ‘ফুল বিজু’। পানিতে ফুল ভাসিয়ে অতীতের সব দুঃখকে বিদায় জানানোর মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায় পাহাড়িরা। ফুল বিজুর পরের দিন মূল বিজু। মূল বিজু দিন বিভিন্ন জায়গায় ও প্রতিবেশীর বাড়িতে গিয়ে আনন্দ উল্লাস করে দিন কাটায় কিশোর-কিশোরীরা। মূল বিজুর দিন চাকমাদের প্রিয় খাবার ‘পাঁচন’ পরিবেশন করা হয়। মূল বিজুর পরের দিন ‘গোজ্জে-পোজ্জে’। যার বাংলা অর্থ ঘোরাঘুরির দিন।
পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বৃহত্তম এই সামাজিক আয়োজনে এখন মুখর শহর, নগর আর পাহাড়ি পল্লীগুলো। বুধবার (১২ এপ্রিল) ছিল চাকমা জনগোষ্ঠীর ‘ফুল বিজু’, ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর ‘হাঁড়িবসু’ আর মারমা সম্প্রদায়ে ‘সূচিকাজ’।
বুধবার (১২ এপ্রিল) ‘ফুল বিজু’র পরপরই তরুণ-তরুণীরা নিজেদের ঘরে ফিরে যায়। মুরুব্বিদের প্রণাম করে আশীর্বাদ নেয়। ফুল ভাসানো শেষে বয়স্কদের গোসল করিয়ে নতুন কাপড় দেয় তরুণ-তরুণীরা। এছাড়াও পাড়ার বয়স্কদের শরীরে পানি ঢেলে তাদের আশীর্বাদ নেয়।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন: কলেজ ছাত্র হত্যা মামলায় পাঁচ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড








