অবশেষে অপসারিত হচ্ছে মহেশখালে নির্মিত অস্থায়ী বাঁধ। বর্ষা আসার আগেই ভারি বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম শহর বেশ কয়েকবার প্লাবিত হওয়ায় বাঁধটি অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। নৌ-মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাঁধটি অপসারণের কাজ শুরু হয়।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ও বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল খালেদ ইকবালের উপস্থিতে বাঁধ অপসারণ কাজ শুরু হয়।
জোয়ারের পানি ঠেকাতে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চট্টগ্রামের নগর পরিকল্পনাবিদদের বিরোধিতা উপেক্ষা করে মহেশখালের বন্দর রিপাবলিক ক্লাব সংলগ্ন অংশে এই বাঁধটি নির্মাণ করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ওই বছর ২ সেপ্টেম্বর বাঁধ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন নৌ পরিবহন মন্ত্রী মো. শাহজাহান খান।
মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, ‘জোয়ারের পানি ঠেকানোর লক্ষ্যে আগ্রাবাদ-হালিশহর এলাকার বাসিন্দাদের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ অস্থায়ী ভিত্তিতে মহেশখালের উপর বাঁধটি নির্মাণ করে। সম্প্রতি বর্ষায় অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের পানির চাপে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, ‘জনদুর্ভোগ কমানোর জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড এর বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে মন্ত্রণালয়ের অনুমতিক্রমে মহেশখালের উপর নির্মিত অস্থায়ী বাঁধটি অপসারণের কাজ শুরু করা হয়েছে।
বাঁধ নির্মাণের পর থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছে উজানে থাকা দক্ষিণ আগ্রাবাদ, গোসাইলডাঙ্গা, উত্তর মধ্যম হালিশহর এবং দক্ষিণ মধ্যম হালিশহরের বাসিন্দারা। গত ৩০ মে ঘূর্ণিঝড় মোরার পর শুরু হওয়া বৃষ্টির প্রভাবে বাঁধের উজান ও ভাটির দুইপাশের মানুষই তিন দিন জলাবদ্ধ ছিল। সে সময় বাঁধ অপসারণের দাবি আরও জোরালো হয়। ১ জুন নগর ভবনের এক বৈঠকে বাঁধটি অপসারণের ঘোষণা দেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। এরপর সোমবার রাতে বাঁধ অপসারণের বিষয়টি সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন: নোয়াখালীতে অস্ত্রসহ ৫ জলদস্যু আটক







