মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষকদের একাংশ। বুধবার (২ আগস্ট) বিকাল ৩টা ২০ মিনিটে নতুন কলা ও মানবিকী অনুষদ ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে ‘সন্ত্রাস ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে শিক্ষকবৃন্দ’ এর ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তারা।
উল্লেখ্য, এই শিক্ষকরা এতদিন ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্যমঞ্চের’ ব্যানারে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নৈতিক সমর্থন জানিয়ে আসছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নৃবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি মির্জা তাসলিমা সুলতানা বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রতিবাদ কর্মসূচিতে পুলিশের হামলা, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ এবং ৫৬ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মামলাসহ সংশ্লিষ্ট ঘটনাবলীর পর বিশ্ববিদ্যালয় চরম সংকটের মধ্যে পড়েছে। মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা অনশনে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষে একজন উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারার মামলা তুলে নেওয়ার চেষ্টার আশ্বাস দিলেও তার বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংকট উত্তরণে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে মধ্যস্থতা করে সম্মানজনক সমাধানের পথ খুঁজতে থাকে শিক্ষক সমিতি। শিক্ষক নেতৃবৃন্দ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে পৃথক পৃথক বৈঠক করেন। কিন্তু প্রশাসনের একগুয়েমির কারণে এ উদ্যোগ ব্যর্থ হয়।’
সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক নাসিম আখতার হোসাইন বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের ওপর আস্থাহীনতায় ভুগছে। তাদের আন্দোলন এখন শিক্ষকদেরও আন্দোলন হয়ে গেছে।’সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দর্শন বিভাগের অধ্যাপক এ এস এম আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া, সহযোগী অধ্যাপক রাইয়ান রাইন, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস, সহযোগী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান সুমন।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের সভাপতিত্বে তার বাসভবনে জরুরি সিন্ডিকেট সভা হয়। বিকাল তিনটার দিকে এ সভা শুরু হয় বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
উপাচার্যের বাসভবনে ভাঙচুর ও শিক্ষক লাঞ্ছনার অভিযোগে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবিতে বুধবার তৃতীয় দিনের মতো প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। সকাল সাড়ে ৮টায় শুরু হওয়া এ অবরোধ বিকাল চারটায় দিনের মতো প্রত্যাহার করে নেন আন্দোলনরতরা।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম অনিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আলোচনার আমন্ত্রণ জানালে আমরা স্বাগত জানাবো।’
প্রসঙ্গত, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে গত ২৭ মে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে পুলিশি হামলার জেরে উপাচার্যের বাসভবনে ভাঙচুর এবং শিক্ষক লাঞ্ছনার অভিযোগে ৫৬ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্যমঞ্চ’ ও ’প্রতিবাদের নাম জাহাঙ্গীরনগর’ এর ব্যানারে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
/এফএস/
আরও পড়ুন- কার হাতে জাবি সমস্যার সমাধান?








