দিনের বেলা ঘুরে বেড়ায় পশু-পাখি, রাতের বেলায় পাহাড়াদার। এছাড়া আর কেউ নেই সেখানে। নেই ডাক্তার, নেই নার্স, এমনকি নেই কোনও কর্মকর্তা-কর্মচারী। আছে শুধু দরজায় লাগানো বড় বড় তালা, সেই তালাতেও পড়েছে মরিচা। স্থানীয়রা জানান, ২০১০ সালে উদ্বোধনের পর থেকে তালাবদ্ধ হয়ে আছে কক্সবাজার জেলার সেন্টমার্টিন হাসপাতাল। পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকার কারণে হাসপাতালের অনেক মূল্যবান জিনিসপত্র ইতোমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
‘এই দ্বীপে কিসের চিকিৎসা? আল্লাহ ছাড়া আমাদের কেউ নেই। নেই কোনও সরকার, নেই কোনও ডাক্তার।’ হাসপাতালের ব্যাপারে জানতে চাইলে এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপের বাসিন্দা শাহানা বেগম। তিনি আরও বলেন, ‘এখানে একটা হাসপাতাল আছে। কিন্তু কোনদিন তা খুলতেও দেখিনি, ডাক্তারও দেখিনি।’
সেন্টমার্টিন দ্বীপে ৪০ বছর ধরে বসবাস করছেন বলে দাবি করে সত্তুর বছর বয়সের আবুল ফজল জানান, দ্বীপের দশ হাজার মানুষের কথা চিন্তা করে সরকার ২০১০ সালে দশ শয্যার এ হাসপাতালটি স্থাপন করে। কিন্তু উদ্বোধনের প্রথম কয়েকদিন পর সবাই চলে গেছেন। তারপর থেকেই পরিত্যক্ত হয়ে আছে হাসপাতালটি। ভবনটি পাহাড়া দেওয়ার জন্য শুধু একজন নৈশ প্রহরী আছেন এখানে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক সময় বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছেন এ দ্বীপের মানুষ। ট্রলার নিয়ে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে না গেলে চিকিৎসা পাওয়ার কোন সুযোগ নেই। সাগর উত্তাল থাকলে ট্রলারই ভাসানো যায় না, মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা তখন চিন্তাও করাও অসম্ভব। তাছাড়া কক্সবাজারে আসা-যাওয়া ব্যয়বহুলও বটে।
এ ব্যাপারে সেন্টমার্টিনের ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, ‘এটি শুধু নামেই হাসপাতাল। কোনদিন এখানে কোনও ডাক্তার দেখিনি। অথচ প্রাথমিক চিকিৎসার অভাবে প্রতিবছর ১০-১৫জন মানুষ মারা যাচ্ছেন এই দ্বীপে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাংসদ, জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জন থেকে শুরু করে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আবেদন করেও সমাধান হয়নি।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কক্সবাজার সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, ‘প্রকৃতিক দুর্যোগ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় কারণে চিকিৎসকরা সেন্টমার্টিনে যেতে চান না। তবে আমি সিভিল সার্জন হিসাবে যোগদানের পর থেকে হাসপাতালটি সচল রাখার চেষ্টা করছি।কিন্তু হাসপাতালটি একেবারে তালাবদ্ধ রয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে তা সত্য নয়। ওই হাসপাতালে নিয়মিত এমবিবিএস ডাক্তার যেতে না পারলেও অন্যান্য ডাক্তার ও নার্সের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়।’
এএইচ/








