রংপুরের কাউনিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা ও মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলায় নব্য জেএমবির সদস্য ছয় আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে শুনানি শেষে বিচারক রংপুরের বিশেষ জজ নরেশ চন্দ্র সরকার আগামী ১৬ আগস্ট অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য করেন।
আদালতে উপস্থিত জঙ্গিরা হলেন, মাসুদ রানা, এছাহাক আলী, লিটন মিয়া, আবু সাঈদ, সাখাওয়াত হোসেন ও তৌফিকুল ইসলাম। তাদের মধ্যে তৌফিকুল ইসলাম ও এছাহাক আলী ছাড়া বাকী চার জঙ্গি রংপুরের কাউনিয়ায় জাপানী নাগরিক হোশি কোনিও হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।
এর আগে কঠোর পুলিশী নিরাপত্তার মধ্য রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জঙ্গিদের রংপুর আদালতে নিয়ে আসা হয়। বিশেষ নিরাপত্তার মধ্যে তাদের হাজত খানার পাশে একটি কক্ষে রাখা হয়। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে পুলিশী পাহারায় তাদের রংপুরের বিশেষ জজ নরেশ চন্দ্র সরকারের আদালতে আনা হয়।
আদালতে হাজির করার পর মামলার বিশেষ পিপি রথিশ চন্দ্র অ্যাডভোকেট জানান, মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলায় ১৪ জেএমবি সদস্যের নামে আদালতে চার্জসিট দাখিল করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে জঙ্গি বাইক হাসান ও সাদ্দাম পুলিশের সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধে আগেই নিহত হয়েছে। বর্তমানে মামলার ১২ আসামি মধ্যে ৯ জন কারাগারে আটক আছে। বাকী ৩ জঙ্গি পলাতক রয়েছে। তারা হলেন চান্দু মিয়া, রজিউল ইসলাম বাদল, ও বাবুল আখতার।
তিনি আরও জানান, এই মামলার ৬ আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হলেও বাকি ৩ জনকে হাজির করা সম্ভব হয়েনি। অন্য মামলায় তাদের মধ্যে সরওয়ার হোসেন, সাদাত ওরফে রতন ও জাহাঙ্গীর গাইবান্ধা এবং দিনাজপুর কারাগারে আটক আছে। আদালত শুনানি শেষে আগামী ১৬ আগস্ট মামলার অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য করেন। একই সঙ্গে ওই দিন মামলার সব আসামিকে আদালতে হাজির করার জন্য কারাকতৃপক্ষকে আদেশ দেন।
এসময় আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে আসামিদের কাছে জানতে চান তারা মামলা পরিচালনা করার জন্য আইনজীবী নিয়োগ করবেন কিনা। আসামীরা জানায় আগামী তারিখে স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনজীবী নিয়োগ করার বিষয়টি আদালতকে জানাবে। আদালত জানায় তারা যদি আইনজীবী নিয়োগ না করে তাহলে সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগ করা হবে।
উল্লেখ্য ২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর রাতে মাজারের খাদেম ও আওয়ামী লীগ নেতা রহমত আলীকে জবাই করে হত্যা করে দুবৃর্ত্তরা।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন: বেনাপোলে ৩৫টি সোনার বারসহ পাচারকারী আটক








