বন্যায় এখনো নওগাঁর আত্রাই উপজেলার অনেক গ্রাম প্লাবিত হয়ে আছে। বন্যার কারণে অনেক পুকুর থেকে মাছ বের হয়ে গেছে। আর সেই মাছ ধরার জন্য বিভিন্ন হাট বাজারে বাঁশের তৈরি চাঁই বা খলশানি বিক্রির ধুম পড়েছে। উপজেলার হাটবাজারগুলোতে প্রতিদিন শত শত খলশানি বিক্রি হচ্ছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাঁট বাজার ঘুরে দেখা যায়, নিজামপুর, ঝিনা, খট্টেশ্বর, কৃষ্ণপুর-মালঞ্চিসহ বিভিন্ন গ্রামের ঋষি সম্প্রদায়ের লোকেরা তাদের নিপুণ হাতের তৈরি খলশানি নিয়ে এসেছেন। তারা উপজেলার আহসানগঞ্জ, কাশিয়াবাড়ি, সুটকিগাছা, পাইকরা, বজ্রপুর, বান্ধাইখাড়া, মির্জাপুর ও ভবানিপুরসহ বিভিন্ন হাঁটে পসরা সাজিয়ে এসব বিক্রির করছেন।
বাঁশ, কটের সুতা এবং তাল গাছের আঁশ দিয়ে তৈরি এসব খলসানি মানের দিক দিয়ে ভালো হওয়ায় বাজারে আত্রাইয়ের খলশানির চাহিদা বেশি। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এসে খলশানি কিনে নিয়ে যায়।
খলশানি কারিগড় সুদিপ্ত বলেন, ‘এসব খলশানি তৈরিতে প্রকার ভেদে খরচ হয় ৭০ থেকে ২শ’ টাকা। ১০০ থেকে ৩ শ’ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বন্যার পানি আরও কমে গেলে বিক্রি আরও বেড়ে যাবে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন,‘বর্তমানে ছোট মাছ ধরার জন্য তৈরি সুতি জাল,ভাদায় ও কারেন্ট জালের দাপটে দেশি প্রযুক্তির বাঁশের তৈরি খলসানি সামগ্রী এখন হুমকির মুখে।’
অপর বিক্রেতা হরিপদ রায় বলেন, ‘জীবনের তাগিদে খলশানি তৈরি করি। তবে সরকারি, বেসরকারি পৃষ্টপোষকতা ও সহযোগীতা পেলে আমরা এ শিল্প এবং ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে পারবো। এখন আর আগের মতো লাভ হয় না। দীর্ঘ দিন ধরে এ ব্যবসায় সঙ্গে জড়িত তাই ছাড়তে পাড়ছি না।’
নাটোর থেকে আসা পাইকার এমতিয়াজ হোসেন বলেন,‘আত্রাইয়ের খলশানি চাহিদা সব সময় বেশি। তাই আমি নাটোরে থেকে খলশানি কিনতে আত্রাই আসছি।’
আরও পড়তে পারেন: নোয়াখালীতে আ.লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা








