ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা একরামুল হক হত্যা মামলায় আদালতে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট খায়রুল আমিন। বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে জেলা ও দায়রা জজ আমিনুল হকের আদালতে এ সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ৪ অক্টোবর মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। ওইদিন একরামুল হক হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও ) ওসি আবুল কালাম আজাদ ও সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জালাল উদ্দিনকে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
ফেনী জজ আদালতের সরকার পক্ষের আইনজীবী হাফেজ আহাম্মদ বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘একরাম হত্যা মামলায় ৫৯ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত ৪৯ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত ৫৬ জন আসামির মধ্যে ৪৫ জন আসামি গ্রেফতার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৮ জন কারাগারে, ১৭ জন জামিনে ও ১১ জন পলাতক রয়েছেন।’
বুধবার ফেনী কারাগারে থাকা ২৮ জন আসামিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে হাজির করা হয়। এছাড়া জামিনে থাকা ১৭ জন আসামিও আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। পরে কারাগারে থাকা ২৮ জনকে আবারও কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী কামরুল হাসান ও গিয়াস উদ্দিন নান্নু সাক্ষীর জেরা করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, চেয়ারম্যান একরামুল হক হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ২০১৫ সালের ২৮ আগস্ট মোট ৫৬ জন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
এ যাবৎ ৪৫ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে গ্রেফতার ১৫ জন আসামি কোনও না কোনোভাবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
৫৬ জন আসামির মধ্যে একমাত্র বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ওরফে মিনার চৌধুরী ছাড়া অন্য সব আসামি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।
২০১৪ সালের ২০ মে ফেনী শহরের একাডেমি এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে চেয়ারম্যান একরামুল হকের গাড়ির গতিরোধ করে তাকে কুপিয়ে, গুলি করে হত্যা করা হয়। গাড়িটিও পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় চেয়ারম্যান একরামুল হকের ভাই রেজাউল হক জসিম বিএনপি নেতা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ওরফে মিনার চৌধুরীসহ অজ্ঞাত ৩০-৩৫ জনকে আসামি করে ফেনী সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
আরও পড়তে পারেন:








